বৃষ্টি বিড়ম্বনায় শেষ হলো আইসিটি এক্সপো

আলাউদ্দিন আলিফ, ব্যুরো চিফ, দৈনিক সচিত্র মৈত্রী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ সময়- ১০:০০ অপরাহ্ন

closing dmoitry

বিআইসিসি থেকে : শেষ হলো তিন দিনের তথ্যপ্রযুক্তির জমজমাট আসর। দেশের হার্ডওয়্যার শিল্পকে রপ্তানিমুখী করার জন্য ১৮ অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয় বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭। মেক ইন বাংলাদেশ স্লোগানে এই প্রদর্শনীতে দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি পণ্য প্রদর্শন  ও বিক্রি করা হয়। শেষ দিন বৃষ্টি বিড়ম্বনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও নানা আয়োজনে শেষ হলো এই এক্সপো।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) এর  যৌথ  উদ্যোগে  এই প্রদর্শনীর আয়েয়াজন করা হয়।

যেসব অধুনা প্রযুক্তি ও ধারণা তথ্যপ্রযুক্তির প্রকৃতি ও ব্যবহার অবিশ্বাস্য গতিতে বদলে দিচ্ছে সেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটুকু এগিয়েছে, আমাদের সক্ষমতা ও উদ্ভাবন উপস্থাপন করা হয় এবারের প্রদর্শনীতে।  বিশেষ করে হার্ডওয়ার, ম্যানুফ্যাকচারিং ও গবেষণা খাতের সম্ভাবনা, কর্মপ্রচেষ্টা ও রূপকল্প তুলে ধরা হয় এবারের এক্সপোতে।

উপস্থাপন করা হয় হাই-টেক পার্ক এবং তথ্যপ্রযুক্তির উৎপাদন অবকাঠামোর অগ্রগতিও। জনসচেতনতা সৃষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যবান্ধব পরিবেশ তৈরি, তরম্নণদের অংশগ্র্রহণ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ ও উদ্যোক্তা তৈরি করতে প্রদর্শনী সফল হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

উত্তরা থেকে প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন তরুণ আইনজীবী তাহমিনা আফরোজ। তিনি বলেন, একজন আইনজীবীকে সবসময় সববিষয়ে সমৃদ্ধ হতে হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা যায় না। তাই প্রযুক্তি প্রদর্শনী দেখে শেখার জন্যই আসি। আইনের প্রকৃতি অনেকটাই বদলেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকেই অপরাধ করছেন। তাই অপরাধের ধরন বুঝতে প্রযুক্তির সঙ্গে আপডেট থাকার গুরুত্ব অনুভব করি।

১৮ অক্টোবর বুধবার বেলা ১১ টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুসত্মাফা কামাল।   এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি ও সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ এমপি প্রমুখ।

এবারের মেলায় আটটি দেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ী, প্রতিনিধি, স্পিকার অংশ নিয়েছিলেন। তারা বিভিন্ন দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিটুবিতে অংশ নেন।
মেলায় গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল সুপরিচিত প্রযুক্তি ব্র্যান্ড এইচপি, টিপিলিংক; সিলভার স্পন্সর হিসেবে অংশগ্রহণ করে ডাহুয়া টেকনোলজি।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের প্রায় ৬,৫০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।  দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শতাধিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির নতুন সব পণ্য, সেবা, জীবনশৈলী ও ধারণা উপস্থাপন করে  প্রতিষ্ঠান। ১৩২টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে তা প্রদর্শন করা হয়।

প্রদর্শনীতে ছিল লোকাল ম্যানুফ্যাকচারাস ফোরাম, গেমিং, সেলফি, কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিট দ্যা লিডারস, লাইভ ইভেন্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিনামূল্যে প্রবেশ, ডিজিটাল সেবা ইত্যাদি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রদর্শনী উপলেক্ষ বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা দেয়া হয়। প্রদর্শনী চলাকালে মেলা প্রাঙ্গনে ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কয়েকটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মেলার আহ্বায়ক বিসিএসের মহাসচিব ইঞ্জি. সুব্রত সরকার বলেন,  হার্ডওয়্যার খাতে বাংলাদেশের এ সকল সাফল্য ও অগ্রগতি দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে এবং এ খাতে আরও এগিয়ে যেতেই আমরা ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭’ আয়োজন করছি।  পুরো প্রদর্শনীকে লোকাল ম্যানুফ্যাকচারাস, আইওটি ও ক্লাউড, প্রোডাক্ট শোকেস, ইনোভেশন, মিট উইথ ইন্টারন্যাশনাল ম্যানুফ্যাকচারারস, ডিজিটাল লাইফস্টাইল, মেগা সেলস, সেমিনার, বিটুবি ম্যাচমেকিং ও হাই-টেক পার্ক– এ রকম ১০টি জোনে ভাগ করা হয়।

এবারের আইসিটি এক্সপো ২০১৭ এর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে ম্যানুফাকচারিং কোম্পানি হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি করে তোলা। বাংলাদেশে আইসিটি খাতে ইন্ড্রাস্ট্রি তৈরিতে আমরা মেলার মাধ্যমে উত্সাহ দিয়ে যাচ্ছি। নতুন যাঁরা উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করছে তারা যেন বাণিজ্যিকভাবে তাদের পণ্য বাজারজাত করতে পারে সেজন্য সহযোগিতা হিসেবে ইন্ড্রাস্টি ও তাদের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যে আয়োজন করা হয়েছিল এবারের মেলা তার সবগুলো পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এই প্রদর্শনী রাত আটটায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এক ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়েছে। রাত নয়টায় শেষ হবে তথ্যপ্রযুক্তির এই আসর।

মৈত্রী/ এএ

Banner