মেয়ে হারা হতভাগ্য এক পিতার ন্যায় বিচার পাওয়ার আকুতি

বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক সচিত্র মৈত্রী
প্রকাশ: বুধবার, ৬ মার্চ ২০১৯ সময়- ৭:২২ অপরাহ্ন

morjena pic

বান্দরবান : পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের নিউ গুলশান এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে মর্জিনা আক্তার(২৫) এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত মর্জিনা নিউ গুলশানের একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর সঙ্গে থাকতো।

নিহত মর্জিনার স্বামী মো. ওমর ফারুক(৩২) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, শনিবার রাতে আমি ঘুমিয়ে পড়লে মর্জিনা পাশের রুমে গিয়ে ফ্যান লাগানোর হুকের সঙ্গে গলায় নিজের ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

কিন্তু নিহত মর্জিনার পিতা-কামাল হোসেন(৪৭) পুলিশকে ও প্রতিবেদককে জানান, আমার অতি আদরের একমাত্র মেয়ে মর্জিনাকে তার স্বামী ওমর ফারুক পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে পরে গলায় ওরনা পেঁচিয়ে ফ্যান লাগানোর লোহার হুকের সাথে মর্জিনার লাশ ঝুলিয়ে রাখে, ওমর ফারুক একজন ঠান্ডা মাথার খূনি, তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই খুনের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জরিত রয়েছে, তারা সকলে পরিকল্পিত ভাবে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।

আমার মেয়ে আমার বাসায় আসলে তার মাকে বলতো তার শ্বাশুরী রিনা বেগম ও তার বড় ঝাঁ জাহানারা বেগম আমার মেয়েকে বিভিন্ন প্রকার মানসিক যন্ত্রনা দিত, ওমর ফারুক তার মায়ের ও তার ঝাঁ এর মিথ্যা ও বানোয়াট অভিগো শুনে আমার মেয়েকে প্রায়ই শারীরিক-মানসিক ভাবে নির্যাতন করে, প্রায় সময় তার গায়ে হাত তুলতো, মর্জিনা আরো জানাই মর্জিনার ছোট শিশু ওমর বিন ফয়সাল এর দিকে তাকিয়ে ও পিতা-মাতার মান সম্মানের দিকে তাকিয়ে অনেক নির্যাতন ভোগ করা সত্বেও স্বামীর ঘর করে যাচ্ছিল।

নিহত মর্জিনার অসহায় হতভাগ্য পিতা কামাল হোসেন আরো জানান, আমার মেয়ে মর্জিনা বিয়ের পর হতে তার শ্বশুর বাড়ীতে থাকা কালিন তার শ্বাশুরী রিনা বেগম ও তার বড় ঝাঁ জাহানারা বেগম আমার মেয়েকে বিভিন্ন প্রকার মানসিক যন্ত্রনা দিত এবং ১নং বিবাদী ওমর ফারুকের সাথে ৩নং বিবাদী জাহানারা বেগমের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল বলে আমার মেয়ে মর্জিনা আক্তার বার বার তার পতিবাদ করে। যার কারণে একপর্যায়ে আমার মেয়ের জামাই ১নং বিবাদী ওমর ফারুক বাধ্য হয়ে গত ৬মাস পূর্বে নিউগুলশানস্থ (বেসান্ত বড়ুয়ার বাড়ী) বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে আমার মেয়েকে নিয়া বসবাস শুরু করে। উক্ত ভাড়াটিয়া বাসায়ও ০২ ও ০৩নং বিবাদী এসে আমার মেয়ে মর্জিনাকে আক্তারকে মানসিক যন্ত্রনা দিত।

কামালে হাসেন আরো জানান, ২৩ ফেব্রুয়ারী/২০১৯খ্রি: তারিখ রাত আনুমানিক ১.১৫ ঘটিকার সময় আমার মেয়ের বাসার পাশের বাসায় ভাড়াটিয়া জনৈক মেহেদী হাসান মোবাইল ফোনে আমার ছেলে রাকিব হাসানকে জানায় যে, আমার মেয়ে মর্জিনা তাদের বাসায় সামনের রুমে ফ্যান লাগানো লোহার হুকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সংবাদ পেয়ে আমি, আমার ছেলে রাকিব হাসানসহ আরো লোকজন আমার মেয়ের ভাড়াটিয়া বাসায় এসে আমার মেয়ে বাসার ফ্লোরে নামানো অবস্থায় দেখি। আমার মেয়েকে চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষনা করে।

সংবাদ পেয়ে বান্দরবান সদর থানা হতে পুলিশ উপস্থি হয়, এবং ঐসময় আমার মেয়ের ব্যাক্তিগত ডায়েরী যাহাতে এই হত্যাকান্ডের বিভিন্ন বিষয়াদী লেখা আছে, পুলিশ তাহা উদ্ধার করে।

নিহত মর্জিনার পিতা কামাল হোসেন আরো জানান, পুলিশ রহস্য জনক ভাবে আমার মেয়ের খুনি ওমর ফারুক এর কথার উপর ভিত্তি করে আদালতে রির্পোট প্রদান করে, মহামান্য আদালত সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে হত্যাকান্ডের এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই ১নং আসামী মো. ওমর ফারুক কে জামিনে মুক্তি দিয়ে দেয়। এমতাবস্থায় বিষয়টি আরো অতি গুরুত্ব সহকারে তদন্তক্রমে মো. ওমর ফারুক ও তার সহযোগিদের যথাযত ভাবে শাস্তি প্রদানে আইন ও বিচার বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন, সুশিল সমাজের নাগরিকগণ, উচ্চ পদস্থ নেত্রীবৃন্দ সহ সকলের নিকট ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য এক অসহায় হতভাগ্য পিতা আকুল আবেদন জানাচ্ছি। অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে যথাযত ভাবে বিচার করা হলে সমাজে ও দেশে আইনের সু-শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

মৈত্রী/এফকেএ/এএ

Banner