কাওয়াসাকি এখন বাংলা মোটরে

আলাউদ্দিন আলিফ, ব্যুরো চিফ, দৈনিক সচিত্র মৈত্রী
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯ সময়- ৩:৫৩ পুর্বাহ্ন

Kawasaki_dmoitry

ঢাকা : বাইক জগতে কাওয়াসাকি একটি স্বনামধন্য বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম। গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে কাওয়াসাকি বাংলাদেশের বাইক বাজারে যাত্রা শুরু করে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কাওয়াসাকির একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় কার্যালয় রয়েছে। রাজধানীর বাংলা মোটরে দ্বিতীয় প্রদর্শনী কেন্দ্র ও সার্ভিস সেন্টারের যাত্রা শুরু করলো কাওয়াসাকি।

বৃহষ্পতিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে এই প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাওয়াসাকি বাংলাদেশের পরিচালক আরমান রাশিদ, সিএফও মো. কামরুজ্জামান, অপারেশন ম্যানেজার সাফাত ইশতিয়াকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

৫টি মডেলের বাইক এই প্রদর্শনী কেন্দ্রে প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে দুইটি অফরোড মডেল, একটি অফরোড এবং অনরোড এবং অন্য দুইটি ছোট ক্যাটাগরির মোটর বাইক এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

১৫০ সিসি সেগমেন্টে দুটি অফরোড মোটর বাইক এনেছে কাওয়াসাকি। বাইক দুইটির মডেল যথাক্রমে কেএলএক্স ১৫০বিএফ এবং কেএলএক্স ১৫০ এল। কেএলএক্স ১৫০ এল বাইকটির উত্তরসূরী হলো কেএলএক্স ১৫০ বিএফ। চিকন ঘরণার এই বাইকগুলো পাহাড়ে এবং জঙ্গলে চালানোর জন্য অতুলনীয়। বাইকগুলোর বসার স্থান নিচু হওয়াতে সহজে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। দুইটি মোটর বাইকে ৪ স্ট্রোক, এয়ার কুলড কার্বুরেটর ব্যবহার করা হয়েছে।

১১৮ কেজি ওজনের এই বাইকগুলোর সর্বোচ্চ অর্শ্বশক্তি ৮০০০ আরপিএম এ ১২ পিএস এবং সর্বোচ্চ টর্ক ৬০০০ আরপিএম এ ১১.৩ এনএম। দুটি বাইকে ৬.৯ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে। বাইক দুটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা যথাক্রমে ২০৭০, ৮২৫ এবং ১১৫৫ মিলিমিটার(মি.মি.)। নিরাপত্তার জন্য দুটি চাকায় ডিস্কব্রেক রয়েছে। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২৯৫ মি.মি.। সেলফ স্টার্টার সহ বাইক দুটির মূল্য যথাক্রমে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

অফরোড এবং অনরোডে সমান পারদর্শীতার জন্য কাওয়াসাকির রয়েছে ডি-ট্রেকার মডেলের বাইক। এই বাইকটির চাকা সমান হওয়ার কারণে সাধারণ রাস্তায়ও বাইকটি নির্বিঘ্নে চালানো যাবে। এই বাইকটির ডিস্ক ব্রেক প্লেটগুলো অফরোড বাইকের চেয়ে বড়। বাইকটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২৭০ মি.মি.। বাইকটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা যথাক্রমে ২০১৫,৮৩০ এবং ১১৩০ মি.মি.। প্রতি লিটার জ্বালানি খরচ করে বাইকটি ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার (কি.মি.) পথ পাড়ি দিতে পারবে। ডি-ট্রেকারের মূল্য ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

আকারে ছোট হলেও শক্তিশালি একটি বাইকের মডেল কাওয়াসাকি জেড ১২৫ প্রো। কাওয়াসাকি এই ঘরণার বাইকগুলোকে মাংকি বাইক বলে থাকে। দুই চাকাতেই রয়েছে টিউবলেস টায়ার। বাইকটির সর্বোচ্চ অর্শ্বশক্তি ৮০০০ আরপিএম এ ৯.৩৭ পিএস এবং সর্বোচ্চ টর্ক ৬০০০ আরপিএম এ ৯.৫ এনএম। ১০১ কেজি ওজনের এই বাইকটিতে ৭.৪ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে। বাইকটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৫৫ মি.মি.। এই বাইকে কিক স্টার্টার নেই। প্রতি লিটার জ্বালানিতে বাইকটি ৪০-৪৫ কি.মি. পাড়ি দিতে সক্ষম। বাইকটির মূল্য ২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

ছোট আকৃতির একক সিটের আরেকটি বাইক হলো কেএসআর প্রো। ১১১ সিসির এই বাইকটিতে কিক এবং সেলফ স্টার্ট রয়েছে। আকারে ছোট হলেও বাইকটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২২৫ মি.মি.। ৯৪ কেজি ওজনের এই বাইকটির সর্বোচ্চ অর্শ্বশক্তি ৮৫০০ আরপিএম এ ৮.৫৮ পিএস এবং সর্বোচ্চ টর্ক ৬০০০ আরপিএম এ ৮.৪ এনএম। এই বাইকটির দুই চাকাতেই ডিস্ক ব্রেক রয়েছে। প্রতি লিটার জ্বালানি খরচ করে বাইকটি ৪৫-৪৮ কি.মি. পথ পাড়ি দিতে পারবে। কেএসআর প্রো এর মূল্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

কাওয়াসাকি বাইকগুলো সম্পর্কে কাওয়াসাকি বাংলাদেশের পরিচালক আরমান রাশিদ বলেন, বিশ্ববিখ্যাত জাপানি ব্র্যান্ড কাওয়াসাকির প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং সার্ভিস সেন্টার ইস্কাটনে চালু হওয়ায় সহজেই বাইকপ্রেমীরা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এখন থেকে বৃহৎ পরিসরে গ্রাহকরা প্রিমিয়াম কোয়ালিটির জাপানি তৈরি বাইক কিনতে পারবেন। ‘অন্য বাইকের থেকে আলাদা’ কাওয়াসাকি মোটরসাইকেল গুণগত মানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যার ফলে পারফরমেন্স ও ভালো বিল্ট কোয়ালিটি এই বাইকগুলোর বৈশিষ্ট্য।

বাইক প্রেমীদের চমকের কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশে কাওয়াসাকির সুপার স্পোর্টস বাইক নিয়ে আসার ঘোষণা দেন। ৫০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ১২ মাসের কিস্তিতে এই প্রদর্শনী কেন্দ্রে কাওয়াসাকি বাইক কেনার সুযোগ মিলবে। এছাড়াও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও বাইক কেনা যাবে। গ্রীস্মকালীন অফারে প্রতিটি বাইকে বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন ফি (২ বছর) মিলবে। এছাড়া প্রতিটি বাইকে বিক্রয়োত্তর সেবা হিসেবে ২ বছরে ৮টি সার্ভিস থাকবে।

মৈত্রী/ এএ

Banner