ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ : রাবার বুলেট ও লাঠি চার্জে আহত ১০

আসাদুজ্জামান খোকন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১০ জুন ২০১৯ সময়- ২:৩৮ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে রাবার বুলেটে আহতদের কয়েকজন।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে রাবার বুলেটে আহতদের কয়েকজন।

কুড়িগ্রাম : ভূরুঙ্গামারীতে সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে মোটর শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ৭ টার দিকে ভূরুঙ্গামারী কেন্দ্রীয় বাসষ্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষ দর্শী সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী থানার একদল পুলিশ সাদা পোষাকে আসামি নিয়ে আসার পথে ভূরুঙ্গামারী বাসষ্ট্যান্ডে যানজটে আটকা পড়ে। এসময় পুলিশের গাড়ির সামনে থাকা ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সহ সভাপতি আরিফকে সাইড দিতে বলে। যানজটের কারনে আরিফ অপরাগতা প্রকাশ করলে একজন পুলিশ সদস্য তেড়ে এসে আরিফকে ঘুষি মারে। এতে আরিফ মোটর সাইকেল থেকে পড়ে যায় এবং তার নাক ফেটে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় শ্রমিক-জনতা প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে পুলিশের বাকবিতন্ডা শুরু হয়।

উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলে পুলিশ তাকেও লাঞ্ছিত করে। এতে শ্রমিক-জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের অপর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌছলে মোটর শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজনের সাথে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে পথচারী ও মোটর শ্রমিক সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরে উত্তেজিত শ্রমিকরা ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ঢাকাগামী কোচ সহ সকল ধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।

আহতরা ভূরুঙ্গামারী সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম সায়েম জানান ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা ৯ জনের শরীরে গোলাকার ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে ক্ষত গুলো রাবার বুলেটের আঘাতে হয়ে থাকতে পারে।’

আহতরা হলেন মানিক, আঃ কাদের, আবেদ আলী, বাবলু মিয়া, সুশান্ত, আঃ রহমান, মুকুল, সবুজ, আরিফ ও রফিকুল ইমলাস প্রমুখ।

উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান জানান পুলিশ আমার সাথে খারাপ আচরণ করলে মটর শ্রমিক ও স্থানীয় জনতা এর প্রতিবাদ করে। কিন্তু পুলিশ অন্যায়ভাবে বল প্রয়োগ করে হামলা চালায়।

উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুন্নবী চৌধুরী খোকন ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজাওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির জানান, শ্রমিকদের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারনে একটি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পরে তা সমাধান করা হয়েছে। তবে তিনি রাবার বুলেট ছোঁড়া ও লাঠি চার্জের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

মৈত্রী/এফকেএ/এএ

Banner