প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের কর্মসংস্থান করে দিল পুলিশ কনস্টেবল

ওমর ফারুক, বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জুন ২০১৯ সময়- ১০:১২ অপরাহ্ন

BBAN NEWS PIC

বান্দরবান : প্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুককে কর্মসংস্থান করে দিলেন জেলা পুলিশের এক সদস্য। ভিক্ষুকের কাছে জীবনের গল্প শুনে তাঁর (ভিক্ষুকের) দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া পুলিশ সদস্যের নাম দোলন চৌধুরী।

দোলন চৌধুরী ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে কনেস্টবল হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুর জেলার কমল নগরে। বর্তমানে বান্দরবান পুলিশ লাইনে কর্মরত আছেন। ছোট বেলা থেকেই মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা তাঁর সখ। তাই যখনই সুযোগ পান মানুষের সেবায় এগিয়ে আসেন। সম্প্রতি এক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের পাশে দাঁড়ালেন তিনি। ভিক্ষা না করার জন্য নিজের বেতনের টাকায় তাঁকে গড়ে দিল কর্মসংস্থান।

জানা গেছে, শহরের ইসলাম পুরের বাসিন্দা মো. হোসেন। বয়স ৪০বছর। কয়েক বছর আগে গাছ থেকে পড়ে তার কোমরে আঘাত পায়। পরে প্যারালাইসড হয়ে তার দুটি পা অকেজো হয়ে পড়ে। তার পর থেকে হুইল চেয়ারে করে বান্দরবানে ভিক্ষা করে। বেশ কিছু দিন ধরে হুইল চেয়ারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ভাল করে চলাফেরাও করতে পারছে না। গত শুক্রবার (১৪জুন) বান্দরবান ট্রাফিক মোড়ে তাকে দেখে এগিয়ে যায় পুলিশ কনস্টেবল দোলন। ভিক্ষুকের কথা শুনে তার মনে মায়া হয়, নিজেই হুইল চেয়ার ঠেলে নিয়ে যায় গ্যারেজে। নিজের টাকা দিয়ে ঠিক করে দেয় তার হুইল চেয়ারটি। এর পর তাকে ভিক্ষা না করার জন্য নিজের বেতনের টাকা দিয়ে বিভিন্ন দ্রব্য কিনে হুইল চেয়ারে সাজিয়ে দেয় একটি দোকান। এখন ভিক্ষুক হোসেন আর ভিক্ষা করে না। হুইল চেয়ারের দোকান দিয়েই সে পরিবার চালায়। ভিক্ষাবৃত্তি থেকে সরে আসতে পেরে খুশি প্রতিবন্ধী হোসেন।

মো. হোসেন বলেন, পুলিশ দোলন বাবা আমার জন্য যেটা করছে আমার নিজের ছেলে হলেও সেটা করত না। মানুষ ভিক্ষাই দিতে চায় না আর সে একজন পুলিশের সৈনিক হয়ে আমার জন্য যা করেছে এযুগে এমনটা কেউ করবে না। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে অনেক বড় করে। এখন থেকে আর ভিক্ষা করব না।

এ বিষয়ে পুলিশ কনস্টেবল দোলন বলেন ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছে ছিল মানুষের সেবায় কাজ করব। ভিক্ষুক হোসেনের গল্প শুনে আমার খুব খারাপ লেগেছে সে আসলে বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করছে। এক সময় তারও সব ছিল অসুস্থ্য হয়ে যাওয়ায় সে এখন নিঃস্ব হয়ে ভিক্ষা করছে তাই তাকে সামান্য সহযোগিতা করলাম যাতে তার আর ভিক্ষা করতে না হয়। আমি নিজেও সামান্য চাকরি করি যেটুকু পারি আমার বেতনের টাকা থেকে সামান্য সঞ্চয় করে রাখি যা দিয়ে চেষ্টা করি মানুষকে সাহায্য করার এতে আমি আনন্দ পাই। এবং ভবিষ্যতেও মানুষের উপকারে কাজ করে যাব।

দোলনের এমন মানবসেবী কাজে খুশি তার সহকর্মী ও বন্ধুরা। তারা বলেন পুলিশের চাকরিতে আসার পর থেকেই দেখেছি দোলন একটু অন্যরকম সে অসহায় মানুষের দু:খ দেখলে সহ্য করতে পারে না। কিছুদিন আগেও শ্রমিক দিবসে সে কয়েজন বয়স্ক শ্রমিককে নতুন পাঞ্জাবী কিনে দিয়েছে এছাড়াও যখনই সে সুযোগ পায় অসহায় মানুষের পাশে দাড়ায়। সে আমাদের পুলিশের গর্ব তাকে দেখে আমরা অনুপ্রেরনা পাই।

মৈত্রী/এফকেএ/এএ

Banner