লামায় ৩ বছরে ১৬৬ দুর্ঘটনা : নিহত ৫৮, আহত সহস্রাধিক

মো. নুরুল করিম আরমান, লামা বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অগাষ্ট ২০১৯ সময়- ৯:৩৪ অপরাহ্ন

লামায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন, রুবেল হাসান।
লামায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন, রুবেল হাসান।

বান্দরবান : লামা উপজেলা থেকে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস চালু ও লামা-চকরিয়া সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার দুপুরে স্থানীয় কুটুমবাড়ি রেস্টুরেন্টের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের কলেজে অধ্যয়নরত উপজেলার শিক্ষার্থীরা এ দাবী জানান। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, চট্টগ্রামে অধ্যয়নরত কলেজ শিক্ষার্থী রুবেল হাসান। এ সময় ফয়সাল আহমেদ, আবদুর নুর তুষার, কামরুল মোস্তফা মাসুদ, ইলিয়াছ পারভেজ, ছোটন কান্তি নাথ, আমির আজিজ, নুর মোহাম্মদ, আক্তার হামিদ, আবু আহসান, আশিকুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলাম ফয়সালসহ অর্ধশত শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, বান্দরবান জেলার সবচেয়ে জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে লামা উপজেলা। এখানে সবচেয়ে বেশি রাবার বাগান ও হর্টিকালচার বাগান রয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্য, শিক্ষা ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে লামা উপজেলাবাসী অনেকাংশে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধুমাত্র পরিবহন সেক্টরে নানাবিদ প্রতিবন্ধকতার কারণে কাঙ্খিত উন্নয়ন ব্যহত হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, ৩০-৪০ বছর ধরে পুরনো বাস ও জীপগাড়ি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লামাবাসীকে চকরিয়া হয়ে চট্টগ্রাম যাতায়াত করতে হয়। এসব পুরনো গাড়ি এবং অদক্ষ চালকের কারণে প্রতি বছর অর্ধ শতাধিক দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।

২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত লামা-চকরিয়া সড়কে ১৬৬টি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৫৮জন নিহত ও আহত হন সহস্রাধিক। দিন দিন এ দুর্ঘটনা বাড়ার কারণে নিহতের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। তাই উপজেলাবাসীর চলাচল ও পরিবহন সেক্টরে এসব সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সহায়তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবীগুলো হচ্ছে- লামা থেকে সরাসরি বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বাস সার্ভিস চালু করণ, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও অউপযোগী যানবাহন সমূহ নিষিদ্ধকরণ এবং লাইসেন্স বিহিন চালক ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক/অপেশাদার সনাক্ত করে তাদেরকে অপসারণ, সড়কের বিপদজনক ও দুর্ঘটনা কবলিত স্থানগুলো চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলন শেষে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের নিকট দাবীগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে তিন দফা দাবি সম্বলিত স্মারক লিপি প্রদান করেন।

সংবাদ সম্মেলনের সত্যতা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী রুবেল হাসান বলেন, তিন দফা দাবী বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

মৈত্রী/এফকেএ/এএ

Banner