প্রসঙ্গ: আখেরী মোনাজাত

আলাউদ্দিন আলিফ
প্রকাশ: শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭ সময়- ৩:২৫ অপরাহ্ন

আখেরী মোনাজাত

আপনি সালাত আদায় করেন, সিয়াম সাধন করেন, দান করেন, হজ্জ্ব করেন, মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করেন, মসজিদের ইমাম বা মুয়াজ্জিন হন, মানুষকে দেখলে সালাম দেন, পরিবারের অন্তর্ভূক্ত নারীদের পর্দার ব্যাপারে আপনি বাড়াবাড়ি করেন না, আপনার ছেলে রাত জেগে মুভি দেখে ফযরের সালাত আদায় না করলেও আপনি ভাবেন, একটা বয়সে এসে ঠিক হয়ে যাবে এবং এ সংক্রান্ত যত কাজ রয়েছে (জিহাদ এবং তাগুদের গোলামী ব্যতীত), ভাল কাজের আদেশ দেন (উপরের কাজ গুলোই ভাল কাজ), পৃথিবীর সর্বোচ্চ জালিম শাসক ও আপনার ব্যাপারে নাক গলাবে না। বরঞ্চ আপনার এই কাজগুলো আরও নিরাপদে কীভাবে করা যায় তার ব্যবস্থাও করে দিতে পারেন। নিজে অমুসলিম হলেও বা বছরে একদিন মসজিদে গেলেও মসজিদ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে পারেন। আপনিও বাহবা দিয়ে গেলেন, সে ও খুশি, আপনিও খুশি। রাষ্ট্রীয় ইফতার মাহফিলেও আপনি দাওয়াত পেয়ে যেতে পারেন।

জ্বী না! আপনি নিশ্চিত জানেন, আপনার যে কাজে জালিম শাসক সন্তুষ্ট হচ্ছে, আপনাকে সহযোগিতা করছে, আল্লাহ সে ব্যাপারে সন্তুষ্ট হচ্ছেন না অথচ আপনার সর্বোপরি লক্ষ্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। আপনি যতদিন পর্যন্ত ইবাদাতের এই উপায় গুলোতেই নিজেকে গুটিয়ে রাখবেন, জালিম শাসক নিশ্চিত ততদিন পর্যন্ত ক্ষমতার কালো কেদারায় নিজের কাটাযুক্ত লাঠি ঘুড়াতে থাকবে ।

আরে ভাই, যখন রাসুল(স.) ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন, তখনকার কাফিরদের কথা ভাবুন। তারা তো প্রাথমিক অবস্থায় প্রকাশ্যে এক ওয়াক্ত সালাত ই আদায় করতে দেয়নি বরঞ্চ ব্যঙ্গ করেছে! আজ কেন তারাই  আপনাকে সাপোর্ট করছে, আপনি বুঝতে পারছেন না???

আপনি না বুঝলেও আপনি যে বীর থেকে কাপুরুষ হয়েছেন, সিংহ থেকে ইঁদুর হয়েছেন, যুবক থেকে শিশু হয়েছেন এটা জালিমেরা, মুসলিম নামধারি কাফেররা ভাল মতো বুঝে নিয়েছে। আপনি যে থাবা দিতেই ভুলে গেছেন আপনার গোটানো হাত দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছে। আর আপনাকে গৃহপালিত করে তুলতেই তাদের এই দুধ ভাত মাখানো খাবার, গোস্ত সহ হাড্ডির প্রলোভন। শুধু একদিন হুংকার দিয়ে খাঁচা ভেঙ্গে ফেলতে চান, আপনাকে ঘায়েল করার লাঠিগুলো মুহূর্তেই আপনার বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে দেরি করবে না অথচ এতদিন কত প্রশংসায় না সে আপনার করেছে, আদর করে আপনার নাম ও দিয়েছে শান্তিপ্রিয় মুসলিম।

আপনি তো রাসুল(স.) কে ভালবাসেন, এত কষ্ট করে এসে এত বড় মোনাজাত করলেন দেশের কল্যাণ কামনায়! শুনুন, সুরা মায়িদা ৪৪,৪৫ এবং ৪৭ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, যারা আল্লাহর আইন অনুযায়ী বিচার করে না,তারা কাফের, জালেম এবং ফাসেক। আখেরী মোনাজাতে দেখুন তো আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করতে! ইসলামী রাস্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে! রাসুল(স.) বলেছেন, যে দেশে নারী নেতৃত্ব থাকবে, সে দেশের কল্যাণ হবে না। আরও বলেছেন,’যত ছবি মূর্তি রাস্তায় রাস্তায় আছে, সব ভেঙ্গে ফেলতে হবে।’ বলুন তো, মূর্তি গুলো ভাঙ্গার কথা! সরকারি অফিসগুলোতে মৃত মানুষের ছবি নামাতে বলে দেখুন তো!

আপনার আখেরি মোনাজাত চিরকালের জন্যই এই দেশের মাটিতে আখেরী হয়ে যাবে তবে আপনি আল্লাহর দরবারে সম্মানিত হতে পারেন আপনার দায়িত্ব পালনের জন্য। আর এখন যা করছেন, তা নিশ্চিত বিদআত আর তাগুদের গোলামী ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না । যেখানে আপনার আলেমরা কি বলবে, তাও সরকার দ্বারা নির্ধারিত। জান্নাতের পথ খুঁজতে গিয়ে আপনি জাহান্নামের পথের পথিক হচ্ছেন। সাবধান মুসলিম! সতর্ক হও সময় থাকতে। নচেত

সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে, যারা ক্রীড়াচ্ছলে মিছেমিছি কথা বানায়। সেদিন তোমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নির দিকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে। এবং বলা হবে- এই সেই অগ্নি, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে, এটা কি জাদু, না তোমরা চোখে দেখছ না? এতে প্রবেশ কর অতঃপর তোমরা সবর কর অথবা না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিফল দেয়া হবে। (সুরা আত্ব তুর; ১১-১৬)

মুসলিমদের সর্ববৃহৎ সম্মেলন হজ্জ্ব। প্রতিবছর হজ্জ্বে সর্বোচ্চ সংখ্যক মুসলিম অংশগ্রহণ করেন অথচ হজ্জ্বে কোন আখেরী মোনাজাত করা হয় না। অথচ ইজতেমাতে প্রতিবছর আখেরী মোনাজাত করা হয়। এই মোনাজাত কতটা সুন্নাহ সম্মত তা নিয়ে স্কলারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এছাড়াও ইজতেমায় সালাত আদায় করার ব্যাপারে ফাজায়ালে আ’মল বইটির তাবলীগ অধ্যায়ে অনেক মনগড়া তথ্য রয়েছে। ফাজায়ালে আ’মল বইটির ভুলগুলো নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা রয়েছে। তাই আখেরী মোনাজাতে সওয়াবের আশায় যাওয়ার আগে কোরআন সুন্নাহ অনুসারে জেনে নিন এই মোনাজাত কতটা প্রাসঙ্গিক?

মৈত্রী অনলাইন/ধর্ম ডেস্ক/২১ জানুয়ারি, শনিবার

Banner