আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার /লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে হেগ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আইনি পদক্ষেপ মিয়ানমারের উপর প্রত্যাশিত চাপ বৃদ্ধি করবে।
রাজধানীরতে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মিয়ানমারের উপর চাপ তৈরির ক্ষেত্রে দেশটি আইসিসি এবং আইসিজে’র কার্য পরিধির বাইরে নয়।
জনাব আলম একই সঙ্গে আশা করেন সামরিক নিপীড়ন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হওয়া হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যে নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত করবে।

দি ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট, ল’ এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (আইসিএলডিএস) এবং ‘ভোরের কাগজ’ যৌথভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে এ আলোচনার আয়োজন করে।
বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলায় জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের বেশিরভাগই ২৫ আগস্ট, ২০১৯ মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর সেখানে এসে পৌঁছেছে। এ ঘটনাকে তখন জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা কর্তৃক ‘জাতিগত নির্মূলকরণের জ্বলন্ত উদাহরণ’ এবং ‘গণহত্যা’ বলা হয়েছিল।

ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গাম্বিয়া গত সপ্তাহে হেগে আইসজে-তে একটি মামলা দায়ের করে। মিয়ানমারকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনে ‘মিয়ানমারের এই গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়’।
এদিকে আইসিসি’র বিচারকেরা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ তদন্তের জন্য গত সপ্তাহে আইনজীবীদের অনুমতি দিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইসিসি ও আইসিজে সদস্য দেশগুলির মধ্যে যারা এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন করছে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, “এবং আমি বিশ্বাস করি, এটি আগামী দিনগুলিতে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে।”

শাহরিয়ার বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক নেত্ববৃন্দের সোচ্চার হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য।

উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবে প্রকাশ্যে মিয়ানমার সরকারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি রোহিঙ্গা সংকটের মত সংবেদনশীল ইস্যু মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ নীতির প্রতি আস্থা রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।

প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভোগান্তির বর্ণনা করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুরোদমে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজার জেলার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করবে।

অনুষ্ঠানে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. সাখাওয়াত হোসেন ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জামির ও শমশের মুবিন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *