সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
বান্দরবানে হাফেজঘোনা ও মেম্বার পাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করল পর্যবেক্ষণ কমিটিশুকরের চর্বি থেকে তেল তৈরি করতে গিয়ে আগুন, পুড়ল বসতঘরবান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন: কে পেলেন কোন দপ্তরগুজবে কান দেবেন না, যাচাই ছাড়া তথ্য ছড়াবেন না : সেক্টর কমান্ডার রুবায়াতবান্দরবানের রাজার মাঠে শারদীয় দুর্গাপূজা ও শারদ মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট সংযোজন বাধ্যতামূলকপাহাড়ের দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রীরশিক্ষার্থীদের সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষ হতে হবে– পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী
খেলা শীর্ষ খবর

তিন যুগের ইতিহাস ভাঙলো বাংলাদেশ

শেয়ার করুন:

স্পোর্টস ডেস্ক / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকখ্যাত এসএ গেমসে তিন যুগের ইতিহাস ভাঙলো বাংলাদেশ। ১৯৮৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এসএ গেমসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয়ের ইতিহাস হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো। ঝলসে ওঠার অপেক্ষায় থাকতে হয়। ২০১০ সালের আসরে ঝলসে ওঠার কারণেই রেকর্ড ভেঙে ১৮টি স্বর্ণপদক এসেছিল বাংলাদেশের হাতে।

এরপর আর রেকর্ড ভাঙার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে ২০১৯ সালের আসরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশের ঘরে এলো ১৯ স্বর্ণপদক।

প্রথম আসরে মাত্র দুটি দিয়ে স্বর্ণজয়ের ইতিহাস শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পরের বছরেই তা গিয়ে ঠেকে ৯টিতে। মাঝখানে ১৯৮৭, ১৯৮৯ আর ১৯৯১ আসরে তিন, এক আর চারের মধ্যেই আটকে থাকতে হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। যদিও রাজনৈতিক উত্থানপতনে এসএ গেমসে স্বর্ণক্ষুধা কখনও থেমে থাকেনি। সেই দৃষ্টান্তই দেখা গেল ১৯৯৩ সালে। এক লাফে ১১টি স্বর্ণ পদক জয় করে বসে বাংলাদেশ।

এরপর আবারো খরা দেখা দেয় দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিকখ্যাত গেমসে। ১৯৯৫ সালের আসরে সাতটি স্বর্ণ পদক আসে বাংলাদেশের ঘরে। এরপর ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৬ সাল অবধি আটকে থাকতে হয় সাত, দুই, তিন আর তিনের চক্রে। স্বর্ণজয়ের সম্ভাবনা যেন স্তিমিত হয়ে আসতে শুরু করে। আর তখন অপেক্ষা বাড়তে থাকে শুধু ঝলসে ওঠার জন্য।

হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো সেই মুহূর্ত আসে ২০১০ সালে। এসএ গেমসের এ আসরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশের ঘরে আসে ১৮টি স্বর্ণপদক। ঝলসে ওঠে গোটা দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা। স্বর্ণ, রৌপ্য আর ব্রোঞ্জ মিলে বাংলার ঘরে আসে ৯৭টি পদক। আর তাতে ক্রীড়াবান্ধব হিসেবে সরকারের প্রতি আস্থাও বেড়ে যায় বহুগুণ।

তবে সেই আগের মতোই আবারো বিষণ্ণতা বাড়ে, খরা দেখা দেয় এসএ গেমসে বাংলাদেশের শিবিরে। ২০১৬ সালের আসর থেকে মাত্র চারটি স্বর্ণপদক নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। আর তখন হতাশা-ক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় রেকর্ডভাঙার স্বপ্ন। যেটা তোলা ছিল ২০১৯ আসরের জন্য।

এসএ গেমস মানেই যে ভারতের আধিপত্য, সেটা সর্বজন বিদিত। আগের ১২টি আসরে সেই প্রমাণ দিয়ে এসেছে ভারত। সবার ওপরেই জায়গা করে নিয়েছিল তারা। সেই ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বিজয়ের মাসে নেপালে শুরু হওয়া এসএ গেমসে ভারত নিয়ে ভিন্ন কিছু ভাবনার সুযোগ ছিল না। ভারত যে দাপট দেখাবে সেটা ধরেই নেয়া হয়েছিল।

তবে না, তেমনটা হয়নি। ভারত সম্পর্কে অতীতের অভিজ্ঞতা এবার কিছুটা পাল্টাতে হলো। নতুন খবর পাওয়া গেল, ২৭টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে ১০টি থেকেই নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে ভারত। এমন খবরে উল্লসিত হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। কেননা, ভারত ছাড়া আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই তাদের সামনে। আর তাতেই লাল সবুজের প্রতিনিধিদের স্বর্ণজয়ের বিশাল সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করলো।

ইতোমধ্যেই তার প্রমাণ দেখা গেছে নেপালে। বাংলাদেশ অতিক্রম করলো ২০১০ সালের স্বর্ণজয়ের ইতিহাস। ঘরে আনলো ১৯টি স্বর্ণ। এক আর্চারি ইভেন্ট থেকেই দশটি স্বর্ণ ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। যা অতীতের সব রেকর্ডকে অতিক্রম করে আসার দৃষ্টান্ত।

দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার ক্রীড়াবিদদের মিলনমেলায় মুখরিত এখন নেপালের কাঠমুণ্ডু। বাংলাদেশ থেকে ৫৯৫ সদস্যের বিশাল বহর এখন সেখানে। আর মাত্র একটি দিন। স্বর্ণজয়ের নতুন ইতিহাস লিখে ফিরবেন বাংলার ছেলে-মেয়েরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। * চিহ্নিত ঘরগুলো পূরণ করা আবশ্যক।

Powered by Done 5 Technologies