শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
পাহাড়ের দুর্যোগ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা তৈরির তাগিদ পার্বত্য মন্ত্রীরশিক্ষার্থীদের সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষ হতে হবে– পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীমালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরুরুমায় প্রাকৃতিক ঝর্ণার পানিতে বদলে গেছে ৪২ পরিবারের জীবনপুরুষ পূর্বসূরিদের চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীনিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীপাহাড়ে পানিসংকট মোকাবিলায় ‘ভূমির ওপরের পানি’ ব্যবহারের তাগিদহিরো বাংলাদেশ ১২ বছরের যাত্রা উদযাপন: হিরো-নিলয় প্ল্যান্টে নতুন মাইলফলক
উপজেলা

লামা উপজেলা: ইতিহাস, জনসংখ্যা ও দর্শনীয় স্থানের পূর্ণ গাইড

শেয়ার করুন:

লামা উপজেলা বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি জনপদ। মাতামুহুরী নদী, সবুজ পাহাড়, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এই উপজেলার পরিচয় গড়ে তুলেছে। বান্দরবান জেলার জনবহুল উপজেলাগুলোর মধ্যে লামা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

লামার পরিচয় কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রশাসনিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, রাবার বাগান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় বাজারও গুরুত্বপূর্ণ। লামা উপজেলা সম্পর্কে জানতে হলে পাহাড় ও নদীর পাশাপাশি এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা এবং ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ধারাও বুঝতে হবে।

লামা উপজেলার অবস্থান ও আয়তন

লামা উপজেলা বান্দরবান জেলার পশ্চিম-মধ্যাংশে অবস্থিত। প্রচলিত পরিসংখ্যানে এর আয়তন ৬৭১.৮৪ বর্গকিলোমিটার উল্লেখ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সরকারি পরিচিতিতে আয়তন ৬৭১.৮৩ বর্গকিলোমিটার দেওয়া আছে; অর্থাৎ উভয় হিসাবে আয়তন প্রায় ৬৭২ বর্গকিলোমিটার।

উপজেলার অবস্থান ২১°৩৬′ থেকে ২১°৫৯′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°০৪′ থেকে ৯২°২৩′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। সরকারি পরিচিতি অনুযায়ী, বান্দরবান জেলা সদর থেকে লামার দূরত্ব প্রায় ৯৮ কিলোমিটার। নির্বাচিত পথ অনুযায়ী যাতায়াতের দূরত্ব ও সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

লামার উত্তরে বান্দরবান সদর ও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা, দক্ষিণে নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদম উপজেলা অবস্থিত। পূর্বে রয়েছে রুমা, থানচি ও আলীকদম এবং পশ্চিমে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা।

লামা নামের উৎপত্তি

লামার নামকরণ নিয়ে দুটি প্রধান ব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে। একটি মত অনুযায়ী, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘লামা’ বলতে নিচের দিক বা ভাটির এলাকা বোঝানো হয়। মাতামুহুরী নদীর ভাটির অঞ্চলে অবস্থানের কারণে এই নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

অন্য একটি স্থানীয় কিংবদন্তিতে আহলামা নামের এক প্রভাবশালী মারমা ব্যক্তির বসতির কথা বলা হয়েছে। তাঁর নাম অনুসারে এলাকাটি ‘আহলামা রোয়া’ বা আহলামা পাড়া নামে পরিচিত হয়। পরবর্তী সময়ে নামটি সংক্ষিপ্ত হয়ে লামা হয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

লামা খাল, লামা বাজার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নামের সঙ্গেও এই ব্যাখ্যার সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়। তবে নামকরণের এসব বিবরণকে প্রচলিত মত ও লোককথা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

লামার ইতিহাস: প্রাচীন জনপদ থেকে উপজেলা

লামার ইতিহাস মাতামুহুরী নদীর অববাহিকা, পার্বত্য চট্টগ্রামের বসতি এবং আশপাশের অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থানীয় ঐতিহাসিক বিবরণে ত্রিপুরা, আরাকান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রভাবের কথা পাওয়া যায়।

প্রাক-মুঘল ও মুঘল যুগ

প্রাক-মুঘল যুগের বিবরণে ত্রিপুরার রাজা ধন মানিক্যের চট্টগ্রাম ও চকরিয়া অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের উল্লেখ রয়েছে। নদীপথ ধরে বিভিন্ন এলাকার মানুষ লামায় এসে বসতি গড়ে তোলে বলে স্থানীয় ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে।

মুঘল যুগের আলোচনায় আরাকানের শাসন, বোমাং নেতৃত্ব এবং ১৬৬৬ সালে মুঘলদের চট্টগ্রাম বিজয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এসব পরিবর্তন পার্বত্য অঞ্চলে জনবসতি ও নেতৃত্বের বিকাশে প্রভাব ফেলেছিল। তবে লামার স্থানীয় ইতিহাস এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ইতিহাসকে একই ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করে তাদের সম্পর্ক বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ব্রিটিশ আমল

ব্রিটিশ শাসনামলে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন ঘটে। ১৮৬০ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গঠিত হয়। বৃহত্তর লামা বোমাং সার্কেলের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

মৌজার হেডম্যান ও পাড়ার কারবারির মাধ্যমে প্রথাগত ব্যবস্থাপনার ভূমিকা স্থানীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। ভূমি, রাজস্ব এবং সামাজিক বিষয় পরিচালনায় এই ব্যবস্থার ঐতিহাসিক উপস্থিতি রয়েছে। ১৯২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর লামা থানা গঠিত হয় বলে প্রদত্ত বিবরণে উল্লেখ আছে।

পাকিস্তান আমল ও স্বাধীনতার পর

পাকিস্তান আমলে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পরিবার এবং কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির কারণে বাস্তুচ্যুত কিছু মানুষের লামায় পুনর্বাসনের বিবরণ পাওয়া যায়। ১৯৭০ সালের ৯ অক্টোবর লামা মহকুমা গঠিত হয়।

স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের আগমন ও পুনর্বাসনের ফলে জনবসতি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি শিক্ষা, সড়ক যোগাযোগ, কৃষি ও ব্যবসার প্রসার লামার পরিচিতি বাড়ায়।

মুক্তিযুদ্ধে লামা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে লামা অঞ্চল ১ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্থানীয় বিবরণে পাকিস্তানপন্থী সহযোগী বাহিনীর নির্যাতন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদের নেতৃত্বে লামা থানা আক্রমণের ঘটনা স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। প্রদত্ত বিবরণ অনুযায়ী, অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আসে।

চাম্পাতলী এলাকার বিদ্যালয়কক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর বর্তমান অবস্থা জানতে স্থানীয় প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও নির্ভরযোগ্য ইতিহাসগ্রন্থের তথ্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রশাসনিক এলাকা ও ইউনিয়নসমূহ

লামা উপজেলা একটি পৌরসভা এবং সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। পৌরসভাটির নাম লামা পৌরসভা।

লামা উপজেলার ইউনিয়নগুলো হলো:

১. গজালিয়া ইউনিয়ন
২. লামা সদর ইউনিয়ন
৩. ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন
৪. আজিজনগর ইউনিয়ন
৫. সরই ইউনিয়ন
৬. রূপসীপাড়া ইউনিয়ন
৭. ফাইতং ইউনিয়ন

প্রদত্ত লেখায় গজালিয়া, সরই, আজিজনগর ও ফাইতং নিয়ে পৃথক সরই উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রস্তাব এবং কার্যকর প্রশাসনিক পরিবর্তন এক বিষয় নয়; বর্তমান কাঠামো সরকারি তালিকা অনুযায়ী উল্লেখ করতে হবে।

লামাকে জেলা ঘোষণার দাবি

লামাকে পৃথক জেলা ঘোষণার দাবি স্থানীয় আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই দাবির পক্ষে জেলা সদরে যাতায়াতের দূরত্ব, প্রশাসনিক সেবা গ্রহণের সময় এবং অর্থনৈতিক ব্যয়ের কথা তুলে ধরা হয়।

প্রদত্ত বিবরণে লামা উন্নয়ন ও জেলা বাস্তবায়ন কমিটি, লামা নাগরিক ফোরাম এবং অন্যান্য সংগঠনের উদ্যোগের উল্লেখ রয়েছে। লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষের প্রশাসনিক সুবিধা বাড়ানো এই দাবির অন্যতম যুক্তি।

তবে জেলা ঘোষণার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত, স্থগিতাদেশ বা জমি অধিগ্রহণের বিস্তারিত ইতিহাস প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রয়োজন। বর্তমানে লামা বান্দরবান জেলার একটি উপজেলা।

জনসংখ্যা, জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় পরিচয়

প্রদত্ত ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, লামা উপজেলার জনসংখ্যা ১,৩৯,৬৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭০,৫২৬ জন এবং নারী ৬৯,১৫৫ জন।

জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার জনসংখ্যার ৭৬.২৩% বাঙালি, ১১.৩২% মারমা, ৭.৭২% ম্রো, ৪.১২% ত্রিপুরা এবং ০.৬২% অন্যান্য জনগোষ্ঠী। শতাংশগুলো গোল করার কারণে যোগফলে সামান্য পার্থক্য হতে পারে।

বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভাষা, পোশাক, উৎসব ও সামাজিক রীতি লামার সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। গজালিয়া, সরই ও রূপসীপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জনগোষ্ঠীর বসতির ধরন আলাদা। তাই পুরো উপজেলার সাংস্কৃতিক পরিচয় বুঝতে ইউনিয়নভিত্তিক বৈচিত্র্যও বিবেচনা করা দরকার।

ধর্মীয় পরিচয়

লামায় মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ বসবাস করেন। মসজিদ, বৌদ্ধবিহার, মন্দির ও গির্জা এই বৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে।

মূল লেখায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনুপাত দুইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট ধর্মীয় শতাংশ প্রকাশের আগে ২০২২ সালের মূল শুমারি প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।

শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান

২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, লামা উপজেলার সাক্ষরতার হার ছিল ৩৪%। এটি সেই সময়ের পরিসংখ্যান; বর্তমান সাক্ষরতার হার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

প্রদত্ত পুরোনো বিবরণে একটি ডিগ্রি কলেজ, একটি ফাজিল মাদ্রাসা, আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, তিনটি দাখিল মাদ্রাসা, তিনটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি মাতামুহুরী কলেজ, লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, লামা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়, গজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং সরই উচ্চ বিদ্যালয়।

এছাড়াও কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ, চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, হলি চাইল্ড স্কুল ও কলেজ এবং লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার উল্লেখ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সংখ্যা ও কার্যক্রম জানতে শিক্ষা দপ্তরের হালনাগাদ তালিকা দেখা প্রয়োজন।

লামা উপজেলার অর্থনীতি

লামার অর্থনীতিতে কৃষি, রাবার উৎপাদন, ফলের বাগান, বাঁশ ও অন্যান্য বনজ পণ্যের ভূমিকা রয়েছে। মৌসুমি ফল, আদা, হলুদ এবং কৃষিপণ্য স্থানীয় ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রদত্ত বিবরণে রাবার ও ফলের বাগানের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কথা রয়েছে। এসব পণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারসংযোগ উন্নত হলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও কুটিরশিল্পও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তামাক চাষের উপস্থিতির কথাও মূল লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কৃষকের নির্দিষ্ট অনুপাত বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে দাবি করার আগে সাম্প্রতিক কৃষি ও বাণিজ্যিক তথ্য প্রয়োজন।

গ্যাস, কয়লা ও অন্যান্য খনিজসম্পদের সম্ভাবনার দাবিকে নিশ্চিত মজুত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব বিষয়ে ভূতাত্ত্বিক জরিপ, অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এবং পরিবেশগত প্রভাব বিশ্লেষণ জরুরি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদী ও বাজার

ঐতিহাসিকভাবে মাতামুহুরী নদীপথ লামার যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরবর্তী সময়ে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নের সঙ্গে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ হয়েছে।

বান্দরবান–লামা এবং চকরিয়া–লামা সড়ক উপজেলার প্রধান যোগাযোগপথ। পরিবহনের সময়সূচি, ভাড়া এবং সড়কের অবস্থা যাত্রার আগে নিশ্চিত করা উচিত।

উপজেলার মধ্যাঞ্চল দিয়ে মাতামুহুরী নদী প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়া লামা খাল ও ইয়াংছা খাল উল্লেখযোগ্য জলধারা। গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে লামা সদর বাজার, লামামুখ, লাইনঝিরি, গজালিয়া, রূপসীপাড়া, ইয়াংছা ও আজিজনগর বাজার।

লামা উপজেলার দর্শনীয় স্থান

লামা উপজেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে পাহাড়ি দৃশ্য, নদী, ঝর্ণা, ধর্মীয় স্থাপনা ও বাগান রয়েছে।

মিরিঞ্জা ও পাহাড়ি ভ্রমণস্থান

মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স এবং মিরিঞ্জা ভ্যালি লামার পরিচিত ভ্রমণস্থান। এছাড়া সুখিয়া ভ্যালি, সুখ দুঃখের পাহাড়, মারাইংছা হিল এবং লামা উপজেলার ভিউ পয়েন্টের উল্লেখ রয়েছে।

মাতামুহুরী নদী ও রাবার বাগান

মাতামুহুরী নদী ও সেতু লামার প্রাকৃতিক দৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফাঁসিয়াখালী রাবার বাগানও প্রদত্ত দর্শনীয় স্থানের তালিকায় রয়েছে। বাগান বা ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থানে যাওয়ার আগে প্রবেশের নিয়ম জানতে হবে।

ঝর্ণা, বিহার ও অন্যান্য স্থান

নুনার ঝিরি ঝর্ণা, আইর মারা ঝর্ণা, হরিন ঝিরি ঝর্ণা এবং মাছ কুমের উল্লেখ রয়েছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থানের মধ্যে নুনার বিলপাড়া পালিটুল বৌদ্ধবিহার, সাবেক বিলছড়ি বৌদ্ধবিহার এবং চংবট ম্রো পাড়া উল্লেখযোগ্য।

তালিকায় আরও রয়েছে কোয়ান্টাম শিশু কানন, বীর বাহাদুর কানন, চেয়ারম্যান লেক ও অরণ্য রিসোর্ট। প্রতিটি স্থানের বর্তমান প্রবেশের ব্যবস্থা, সঠিক অবস্থান এবং যাতায়াতের পথ আলাদাভাবে যাচাই করা উচিত।

লামা উপজেলা সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

লামা উপজেলা কোন জেলায় অবস্থিত?

লামা উপজেলা বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার অন্তর্গত।

লামায় কয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা রয়েছে?

লামায় সাতটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা রয়েছে।

লামার প্রধান নদী কোনটি?

লামা উপজেলার প্রধান নদী মাতামুহুরী।

লামার পরিচিত দর্শনীয় স্থান কী কী?

মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, মিরিঞ্জা ভ্যালি, মাতামুহুরী নদী, ফাঁসিয়াখালী রাবার বাগান এবং বিভিন্ন ঝর্ণা ও পাহাড়ি স্থান পরিচিত আকর্ষণ।

Powered by Done 5 Technologies