শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
উপজেলা বাছাইকৃত খবর শীর্ষ খবর

রুমায় প্রাকৃতিক ঝর্ণার পানিতে বদলে গেছে ৪২ পরিবারের জীবন

শেয়ার করুন:

পানির জন্য আর কষ্ট করতে হয় না। বাড়ির পাশেই বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি। কাপড় কাচা, হাঁড়ি-পাতিল ধোয়া ও খাওয়ার জন্য একই পানি ব্যবহার করি। পানি পেয়ে আমরা মহাখুশি।

এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করলেন বান্দরবানের রুমা সদর ইউনিয়নের বগালেক সড়কের প্রংফমক পাড়ার বাসিন্দা দুই গৃহবধূ নিহই খুমী (২৩) ও নাই এ খুমী (৩১)।

গত রোববার দুপুরে পাড়ার একটি ছোট চা দোকানে গোসল করার জন্য সাবান কিনতে এসে এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, গত আগস্ট মাসেও বৃষ্টির মধ্যে পিচ্ছিল পাহাড়ি পথ বেয়ে দূর থেকে পানি আনতে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন প্রায় ২৯ দিনের মত হল, বাড়ির পাশের পয়েন্ট থেকেই বিশুদ্ধ সুপেয় পানি পাচ্ছেন।

ওই সময় চা দোকানে এগিয়ে আসেন পাড়া কমিটির সভাপতি মায়া খুমী ও প্রংলং খুমী। তিন কাপ চায়ে চুমুক দিতে দিতে চলে পাড়ার সামাজিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা আলাপ।

মায়া খুমী জানান, পাড়ায় ৪২ পরিবারের বসবাস। আগে পানি সংগ্রহের পুরো ধকলটাই নারীদের ওপর পড়তো। এখন প্রতিটি ঘরে বা ঘরের ভেতরেই পানির পয়েন্ট বসানো হয়েছে। ফলে নারীদের সেই কষ্ট লাঘব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও নিয়মিত ক্লাস নিয়ে সংকট রয়েছে।

ঝর্ণা থেকে ফিল্টার হয়ে ঘরে ঘরে পানি, কমেছে রোগ

প্রংলং খুমী জানান, আগে অনিরাপদ পানির কারণে পাড়ায় শিশুদের মধ্যে প্রায়ই ডায়রিয়া ও পাতলা পায়খানা দেখা দিত। প্রাকৃতিক ঝর্ণা থেকে গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেমে (জিএফএস) পানি এনে ফিল্টারের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করে সরবরাহ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রোগ অনেকটাই কমে গেছে।

জানা গেছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ইউএনডিপির যৌথ প্রকল্পের আওতায় ১২ লক্ষ টাকার ব্যয়ে এই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু হয়ে সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হয়। প্রাকৃতিক ঝর্ণা থেকে পাইপ লাইনে পানি এনে একটি ট্যাংকে ফিল্টার সিস্টেমের মাধ্যমে বিশুদ্ধ করা হয়। সেখান থেকে পাড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

কাজটি টেকসই করতে পাড়াবাসীদের নিয়ে একটি পরিচালনা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি মায়া খুমী বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। উদ্বোধনের পর আমরা পাড়াবাসীরাই এটি দেখভাল করব।

বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে পারাবাসীরা বলেছেন ৪২ পরিবারের জন্য এই বিশুদ্ধ পানি প্রাপ্তি অবর্ণনীয় আনন্দের।

শৈহ্লাচিং মার্মা/মুন্না।

Powered by Done 5 Technologies