সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম
বান্দরবানে ‘মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ’ শুভ উদ্বোধনওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ ঘিরে রুমা বাজারে শুঁটকি মাছের বাজার জমজমাটবাজারে এলো শক্তিশালী ব্যাটারির নতুন স্মার্টফোন ‘হেলিও ৬৫’বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী থানচিতে চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটবলারদের জমকালো সংবর্ধনা ২৭ অক্টোবরখাদ্য ব্যবসায় বিএফএসএ নিবন্ধন বাধ্যতামূলকবান্দরবানে হাফেজঘোনা ও মেম্বার পাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করল পর্যবেক্ষণ কমিটিশুকরের চর্বি থেকে তেল তৈরি করতে গিয়ে আগুন, পুড়ল বসতঘর
খবর জাতীয় শীর্ষ খবর

নেপালের প্রতিবেদনে ‘নিয়ন্ত্রণ কক্ষে চেষ্টা ঘাটতি’ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে: বেবিচক

Nepalese rescuers stand near a passenger plane from Bangladesh that crashed at the airport in Kathmandu, Nepal, Monday, March 12, 2018. (AP Photo/Niranjan Shreshta)
শেয়ার করুন:

কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত নেপালের তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ‘চেষ্টার ঘাটতির’ বিষয়টি সেখানে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান। তিনি বলেন, ‘পাইলটের ভুল কিছু থাকলেও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল চাইলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।’

গতবছর ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের ওই দুর্ঘটনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিএস-২১১ এর ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জনের মৃত্যু হয়, যাদের ২৭ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

রোববার ওই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে নেপালের তদন্ত কমিশন। সেখানে বলা হয়েছে, বিএস-২১১ এর পাইলট আবিদ সুলতান ‘মানসিকভাবে বিপর্যস্ত’ অবস্থায় ছিলেন। ফলে পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট সতর্ক ‘ছিলেন না’। মরিয়া হয়ে অবতরণের চেষ্টা না করে তিনি আবার আকাশে ফিরে যেতে পারতেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আবিদ সুলতানের ফ্লাইট চালানোর অভিজ্ঞতা ছিল সাড়ে ৫ হাজার ঘণ্টার বেশি। ত্রিভুবনে দুর্ঘটনায় পড়া উড়োজাহাজটি ছিল কানাডার বমবার্ডিয়ারের তৈরি একটি ড্যাশ ৮-কিউ৪০০। ওই ধরনের উড়োজাহাজ আবিদ সুলতান চালিয়েছেন ১৭০০ ঘণ্টার বেশি।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ বলে আসছিল, শতাধিকবার ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের অভিজ্ঞতা থাকা আবিদের ভুলে ওই দুর্ঘটনা ঘটেনি।

কিন্তু ৪৩ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কমিশন বলেছে, ইউএস-বাংলার এক নারী সহকর্মী ইনসট্রাক্টর হিসেবে আবিদের সুনাম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ওই যাত্রায় মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন বিএস-২১১ এর পাইলট। তাদের মধ্যে সম্পর্ক কেমন ছিল, সেই আলোচনা ছিল ফ্লাইটের সময়ের একটি বড় অংশ জুড়ে।

ওই আলোচনার এক পর্যায়ে আবিদ অনেকটাই ভেঙে পড়েন। ককপিটে বসে নিয়ম ভেঙে তিনি ধূমপানও করেন। অবতরণের আগের ওই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উড়োজাহাজ চালনার বিধিবদ্ধ নিয়মগুলো অনুসরণ করতে ব্যর্থ হন তিনি। আবিদ ও পৃথুলার অসতর্কতার কারণে উড়োজাহাজটি নির্ধারিত পথ থেকে সরে যায়।

তদন্ত কমিশনের সদস্য বুদ্ধিসাগর লামিচানে রয়টার্সকে বলেছেন, “পাইলট ভেবেছিলেন, তিনি উড়োজাহাজটি নির্ধারিত পথে ফিরিয়ে এনে ঠিকমতই অবতরণ করতে পারবেন। কিন্তু তিনি তা পারেননি।”

ভূমি স্পর্শ করার পর উড়োজাহাজটি রানওয়ের বাইরের চলে যায় এবং অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়। ৪৭ আরোহীর সঙ্গে দুই ককপিট ক্রু ও দুই কেবিন ক্রুরও মৃত্যু ঘটে।

ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর সোমবার সাংবাদিকদের সামনে আসেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এম নাঈম হাসান। নেপালের তদন্ত দলে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে থাকা বেবিচকের ফ্লাইট অপারেশন কনসালটেন্ট সালাউদ্দিন এম রহমতউল্লাহ এবং ইউএস বাংলার মার্কেটিং সাপোর্ট অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের জিএম মো. কামরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

Powered by Done 5 Technologies