খেলা

ফের ইনিংস ব্যবধানে হারের পথে বাংলাদেশ

রানের হিসাবে বেশ মিল আছে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান আর বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে। ব্যাট হাতে স্বাগতিক দলের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন পেয়েছেন ডাবল সেঞ্চুরি আর বল হাতে বাংলাদেশের অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ দিয়েছেন ২৪৬ রান। স্বাগতিক দলের দুই ওপেনার জিত রাভাল ও টম লাথাম পেয়েছেন সেঞ্চুরি। আর সফরকারী দলের দুই ওপেনিং বোলার আবু জায়েদ রাহি ও এবাদত হোসেন দিয়েছেন শতরান। তবে রান নেয়া-দেয়ার এ প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ! কেননা রান দেয়ার সেঞ্চুরি করেছেন আরেক পেসার সৈয়দ খালেদ মাহমুদ। রান দেয়ায় বাংলাদেশের বোলারদের এক ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে তিনটি সেঞ্চুরি। আর কিউই ব্যাটিংয়ে এক ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে দুটি সেঞ্চুরি।

হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে কিউই ব্যাটসম্যানদের রান উৎসবের সামনে বাংলাদেশের বোলারদের এ অবস্থা থেকেই স্পস্ট যে মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর দুর্দশা কোন মাত্রার? টেস্টের দুদিন বাকি থাকতেই সফরকারীদের ইনিংস হার এখন সময়ের ব্যাপার। প্রথম ইনিংসে ৪৮১ রানে এগিয়ে থেকে ৫ উইকেটে ৭১৫ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড। জবাবে গতকাল তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান। শুধু ইনিংস এড়ানোর জন্যই বাংলাদেশের আরো ৩০৭ রান প্রয়োজন। হাতে ৬ উইকেট। উইকেটে আছেন সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। সৌম্য খেলছেন ৩৯ রানে। আর মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত আছেন ১৬ রানে।

প্রথম ইনিংসের মতো গতকাল দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের হয়ে একাই লড়াই করেছেন ওপেনার তামিম ইকবাল। ৮৬ বলের ইনিংসে ৭৪ রান করেন এ বাঁহাতি ওপেনার। তাতে ১২ বাউন্ডারির সঙ্গে একটি ছক্কা। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রান এসেছিল তামিমের ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। সাদমান ইসলামকে সঙ্গী নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৮৮ রান যোগ করেন তামিম। সাদমানকে (৩৭) আউট করে জুটি ভাঙেন প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের যমে পরিণত হওয়া নিল ওয়াগনার। এরপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সফরকারীদের ইনিংস।

দ্রুতই সাজঘরমুখো হন মুমিনুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুন। প্রথম ইনিংসে ১২ রান করা মুমিনুল বিদায় নেন ৮ রানে। কোনো রানই করতে পারেননি মিঠুন। এ দুজনকেই শিকারে পরিণত করেন ট্রেন্ট বোল্ট। দিনের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তামিম। টিম সাউদির বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তামিম। সৌম্যের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মাহমুদউল্লাহ। দিনের শেষ ১১.৪ ওভার নির্বিঘ্নেই পার করেন এ দুজন।

দিনের শুরুটা ছিল কিউই ব্যাটসম্যানদের। বিশেষ করে স্বাগতিক অধিনায়ক উইলিয়ামসন বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ে মেতে ওঠেন ইচ্ছা পূরণের খেলায়। ৯৩ রান নিয়ে খেলতে নেমে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি। দ্বিশত রানে পৌঁছানোর পর পরই ইনিংস ঘোষণা করেন স্বাগতিক দলের অধিনায়ক। তাকে সুযোগ্য সঙ্গ দেন নিল ওয়াগনার (৪৭), বিজে ওয়াটলিং (৩১) ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম (৭৬*)। এই রান উৎসবে টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাতশোর্ধ্ব রানের মাইলফলকে পৌঁছেছে নিউজিল্যান্ড। টেস্ট ক্রিকেটে এর আগে তাদের দলীয় সর্বোচ্চ রান ছিল ৬৯০। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৪ সালে এ রান করেছিল কিউইরা।

রান দেয়ার পাল্লায় বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন তারকা অফস্পিনার মিরাজ। এই ডানহাতি স্পিনার ২৪৬ রান খরচায় পান ২ উইকেট। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান দেয়ার রেকর্ডটিও গড়েছেন তিনি। শতাধিক রান দেয়ার পরও উইকেটশূন্য ছিলেন পেস বোলার আবু জায়েদ (১০৩) ও খালেদ আহমেদ (১৪৯)। অভিষিক্ত এবাদত ১০৭ রান খরচায় পেয়েছেন ১ উইকেট। পার্টটাইম পেসার সৌম্যের বোলিং ফিগারটাই কিছুটা ভদ্রস্থ। এ বাঁহাতি বোলার ২১ ওভারে ৬৮ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট। আর বাকি উইকেটটি পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *