১ লক্ষ ঘুষ না পেয়ে রিকশাচালককে ডাকাতির মামলায় চালান!
স্টাফ রিপোর্টার,
লিগ্যাল ভয়েস : বগুড়ায় ১ লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে এক রিকশাচালককে ডাকাতি মামলায় আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাহালু থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। আজ দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রিকশাচালক একছার আলীর ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম। সংবাদ সম্মেলনের পর ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে জামিন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কাহালু উপজেলার পাতানজো গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিল তার চাচার সঙ্গে। গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে কাহালু থানার এসআই হেলাল উদ্দিন ও ব্রজেশ্ববর বর্মন তার বড় ভাই একছার আলীকে থানায় ডেকে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে একছার আলীর প্রতিবেশীরা থানায় গেলে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই হেলাল উদ্দিন। পরে বিষয়টি কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র জানতে পেরে থানায় যোগাযোগ করেন একছার আলীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কিন্তু থানা থেকে জানানো হয় একছার আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। পরদিন একছার আলীকে পুরনো একটি ডাকাতি মামলায় (মামলা নং-০২) তারিখ-০২-১২-১৮, ধারা-৩৯৯/৪২০) আদালতে চালান দেওয়া হয় তাকে।
কাহালু থানার পুলিশ দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজশে প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তার ভাইকে ডাকাতি মামলায় চালান দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীর আলম। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ উদ্দিন রিকশাচালক একছার আলীর বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান রঞ্জুর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে কাহালু থানার এসআই হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পশ্চিম) মোকবুল হোসেন বলেন, সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে কাহালু থানার ওসিকে একছার আলীর বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

