খালেদার মুক্তি নিয়ে কাদের-ফখরুলের ফোনালাপ

তৌফিক ইমাম / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’র (বিএনপি) প্রধান খালেদা জিয়া। তার প্যারোলে মুক্তির বিষয় নিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এ সময় দলের প্রধানের অসুস্থতার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানাতে ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ করেন ফখরুল।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে মির্জা ফখরুল সাহেব আমার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন, আলাপ হয়েছে। তাদের দলের পক্ষ থেকে তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছেন। আমি যেন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করি।’ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে বলেও জানান কাদের।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাহেব টেলিফোনে কথা বলেছেন। কিন্তু সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি জিজ্ঞেস করেছি গতকালও, আইনমন্ত্রীর সঙ্গেও আমি কথা বলেছি, কিন্তু তারা বিচ্ছিন্নভাবে পরিবারের লোকজন ও দলের লোকজন, বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে কথা বলছেন। অনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল পর্যন্ত পাননি। তারা মুখে বলছেন, তারা খালেদার মুক্তি চান, আবেদন করবেন, কিন্তু আবেদনটা লিখিতভাবে আসেনি। গতকাল পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা আইনমন্ত্রী কেউই বলেননি যে বিএনপি কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোন আবেদন পেয়েছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফখরুল সাহেব আমাকে ফোনে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের এই আবেদনটা জানাতে বলেছেন মৌখিকভাবে। আমি সেটা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। আমি এটুকু বলতে পারি, এছাড়া কোনো লেনদেন বা এ নিয়ে কোনো কথাবার্তা এসব আমাদের সাথে হয়নি। তলে তলে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে, কালকে টক শোতে শুনলাম, আমার মনে হয় বাস্তবে বিষয়টা তেমন কিছু নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বারবার সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি বা প্যারোলে মুক্তি চাচ্ছে, কিন্তু বিষয়টি রাজনৈতিক মামলা নয়। সরকার বিষয়টি তখনই বিবেচনা করতে পারতো, যদি সেটা রাজনৈতিক হতো। তারা (বিএনপি) প্যারোলোর জন্য আবেদন করলে কী কী কারণে প্যারোল চান তা আবেদনে উল্লেখ করতে হবে। সেটা নিয়মের মধ্যে পড়ে কি-না তাও দেখতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড যে রিপোর্ট দেবে তা আদালতের কাছে পৌঁছাতে হবে। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নেতারা যেভাবে বলেন, দায়িত্বরত ডাক্তাররা সেভাবে বলেন না। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সরকার এতটা অমানবিক আচরণ করবে না।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, বিএনপি এক মুখে দুই কথা বলেন। এটা দ্বিচারিতা। তারা কী চান নিজেরাই জানেন না। এ কারণে তারা রাজনীতিতে সফল হতে পারছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

বর্তমানে কারা হেফাজতে খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন আছেন। দুই বছর ধরে কারাবন্দি বিএনপি প্রধানকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা দিতে সরকারের কাছে সুপারিশ করতে বিএসএমএমইউর ভিসির কাছে আবেদন করেন তার স্বজনরা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বজনদের পক্ষ থেকে এ আবেদন করেন।