বিএনপি-জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের কখনো ঐক্য হতে পারে না : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর :

সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিএনপি সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা কর্মী হত্যা ও নিগৃহীত হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগের কখনো ঐক্য হতে পারে না।

গত ৯ জানুয়ারি চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করলে সরকারি দলের সদস্য আ স ম ফিরোজ তা সমর্থন করেন।

গত ৯ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ ও বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদে ভাষণ দেন।

রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আজ আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সরকারি দলের এ কে এম শাহজাহান কামাল, কাজী কেরামত আলী, এম আবদূল লতিফ, আছলাম হোসেন সওদাগর, এম এ মতিন, আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভী, হাসিবুর রহমান স্বপন, কাজী নাবিল আহমেদ, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সেলিমা আহমেদ, ওয়ার্কর্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদসা, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, বিএনপির মোশাররফ হোসেন, গণফোরামের মোকাব্বের খান ও তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইভান্ডারি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, যাদের হাত লাখ লাখ নারী পুরুষের রক্তে রঞ্জিত, যারা এ দেশের মা বোনদের ইজ্জত হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল, তাদের দোসরদের সাথে কখনও ঐক্য হতে পারে না।

শাহরিয়ার আলম বলেন, বিএনপি- জামায়াত সরকার আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা কর্মীকে হত্যা করেছে। অসংখ্য নেতা কর্মীকে পঙ্গু করা হয়েছে। সে সময় হাজার হাজার নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অসংখ্য বাড়ি ঘর স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৪ সালে সারা দেশে আগুন সন্তাস চালিয়ে অসংখ্য নারী, পরুষ ও শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এরা এখন ঐক্যের কথা বলেন। এদের সাথে কখনও ঐক্য হতে পারে না।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বর্তমান সরকারের সঠিক পররাষ্ট্র নীতির কথা তুলে ধরে বলেন, বিএনপি- জামায়াত আমলে দেশের পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। স্বাধীনতা বিরোধীদের পুর্নবাসন করতে গিয়ে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল। এছাড়া ভুল পররাষ্ট্রনীতির ফলে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১১ বছরে প্রতিবেশীসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা আজ এক অননন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে । শেখ হাসিনার সরকারের ভারসাম্যমূলক ও বন্ধুসুলভ কূটনৈতিক সম্পর্কের কারনেই এটা সম্ভব হয়েছে।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা গত ১১ বছরে বর্তমান সূচিত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। আর এ উন্নয়নের কারিগর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো এ বছর সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে এক সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন জাতির জন্য একটা সুখবর। তিনি বলেন, আসুন দল যার যার দেশ সবার এ মনোভাব আমরা সবাই একত্রে দেশটিকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিনত করি।

আলোচনায় অন্যান্য সদস্যরা বলেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও অব্যাহত আর্থসামাজিক উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে সবাই আজ একতাবদ্ধ। এ ঐক্য আরো সুদৃঢ় করে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে।

সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং সমাজের সকল স্তরে জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে “এ বছর আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে মধ্য-আয়ের দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো।

সরকারি দলের সদস্যরা বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, তারাই এ দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, খুন আর দুর্নীতির আর দূর্বৃত্তায়নের রাজনীতির সূচনা করে। তাদের অপশাসন ও দুঃশাসনের কারণেই দেশ বার বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভিশনারী নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে সেই নেতিবাচক অবস্থা থেকে তুলে এনে মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে সামিল করেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে দেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে।