লামায় জমি ছেড়ে দিতে কৃষককে প্রভাবশালী মহলের আল্টিমেটাম

লামা, বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবান : জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বান্দরবানের লামা উপজেলার এক প্রান্তিক কৃষককে আল্টিমেটাম দিয়েছে বহিরাগত প্রভাবশালী মহল। শুধু তাই নয়, জমি ছেড়ে না দিলে কৃষককে অর্ধশত মিথ্যা মামলায় জড়ানো সহ তুলে নিয়ে প্রাণ নাশেরও হুমকি দেন তারা। চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৩০), ইদ্রিস কোম্পানী (৫০), পারভেজ (২৫) সহ অজ্ঞাত নামা আরো ৮ জন প্রভাবশালী এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন, কৃষক আবু বক্কর ছিদ্দিক। এ ঘটনার পর জীবনের নিরাপত্তা ও জমি রক্ষায় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক পরিবার।

অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার সরই ইউনিয়নের আমতলী পাড়ার বাসিন্দা বাসিন্দা মৃত আবদুল করিমের ছেলে মো. আবু ছৈয়দের কাছ থেকে ২০০৮ সালে ৩০১নং সরই মৌজার আর/৯৫ হোল্ডিং মূলে ৮০ শতক জমি কিনে তথায় বসতঘর ও ফলদ বনজ বাগান সৃজন পূর্বক ভোগ করে আসছেন কৃষক আবু বক্কর ছিদ্দিক। যাহার চৌহদ্দী উত্তরে- শাহাজাহানের ১২২নং আবেদনের সীমানা, দক্ষিণে-বিক্রেতার চাষিলা জমি, পশ্চিমে- হারুণের লীজকৃত বাগান, পূর্বে- ডিসি রোড। গত ৬-৭ মাস ধরে ওই জমির ওপর লোহাগাড়া উপজেলার প্রভাবশালী সাইফুল ইসলাম সহ অন্যদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। তারা জামি জবর-দখল করার জন্য শুরু করে নানা ষড়যন্ত্র। এরই ধারাবাহিকতায় ইদ্রিস কোম্পানীর প্রভাব খাটিয়ে সম্প্রতি সাইফুল ইসলাম লোকজন নিয়ে তারকাটা ও পিলার লাগিয়ে কৃষক আবু বক্কর ছিদ্দিকের বাকী বসতভিটার জমি দখল করতে যায়।

এ ঘটনায় ছিদ্দিক আহমদ তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উল আলম ও পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আবুল হাশেম অভিযুক্তদের জবর দখলে বাধা দেন। এর আগে আবু বক্কর ছিদ্দিকের রোপিত ২০০টি আমের চারা, ১১টি কলা গাছ ও ৩টি লিচু গাছের চারা উপড়ে ফেলে সাইফুল ইসলামরা।

কৃষক আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, আমি অভিযোগ করার পর ক্যয়াজুপাড়া পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য তারিখ দেন। কিন্তু নির্ধারিত তারিখ মতে আমি কাগজপত্র নিয়ে হাজির হলেও সাইফুল ইসলাম হাজির হয়নি। বরং বিভিন্ন ভাবে আমার জমি জবর দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং আমাকে জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।

স্থানীয় নূর আহমদ, গোলাম সোবহান, নুরুচ্ছফা, নুর আয়েশা বেগম, ছালেহা বেগম ও আবু ছৈয়দ বলেন, ২০০৮ সালে আবু বক্কর ছিদ্দিকের কাছে আমাদের বাবার নামীয় জমি থেকে ৮০ শতক জমি বিক্রি কিনেন। তৎসময়ে তাকে জমির দখল বুঝিয়ে দেয়ার পর বসতঘর সহ বাগান সৃজন করে ভোগ করে আসছেন আবু বক্কর ছিদ্দিক। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে সাইফুল ইসলামরা ওই জমি তাদের দাবী করে জবর দখলের চেষ্টা করছেন।
এদিকে অভিযুক্ত মো. ইদ্রিস কোম্পানী ও সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আবু বক্কর ছিদ্দিকের অভিযোগ মিথ্যা। আমরা আবু বক্কর ছিদ্দিকের জমি জবর দখলের চেষ্টা করছি না। আমরা আমাদের জমিতে আছি।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ উল আলম বলেন, আবু বক্করের বিষয়টি সমাধানের জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।

ক্যয়াজু পাড়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. আবুল হাশেম বলেন, জমি জবর দখলের অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সাইফুল ইসলামরা হাজির না হওয়ায় বিষয়টি সমাধা করা যায়নি।

মৈত্রী/এফকেএ/এএ