ফিচার

শিশুর স্থুলতা নিয়ে চিন্তিত?

শিশুদের অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ তারা দৈনিক যতটুকু ক্যালরি গ্রহণ করে, ততটুকু পোড়ায় না। ফলে তা স্থূলতায় পরিণত হয়। কোমলপানীয়, ফাস্টফুড, ডেজার্টেও তারা আসক্ত। সঠিক সময়ে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শিশুর খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বরাবরই মায়েদের চিন্তা থাকে। বলতে গেলে কিছুক্ষণ বাদে বাদেই খাবারের থালা নিয়ে শিশুর পেছন পেছন ছোটেন মায়েরা। কিন্তু খায় না বলে ওজন ঠিক থাকে না শিশুর। এখানে কয়েকটি বিষয় রয়েছে, তা হলো অনেকে মনে করেন, মোটা হলেই তা ভালো স্বাস্থ্য। আর এজন্য শিশুকে বারবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। অথচ ধারণাটি সঠিক নয়। মোটা হওয়া ও সুস্থতা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। আর বারবার খাওয়ানোর চেষ্টা করায় শিশুর রুচি নষ্ট হয় ও খাওয়ার ইচ্ছা থাকে না। ফলে সঠিক পুষ্টি তাদের শরীরে প্রবেশ করে না। ফলে বাড়ে না ওজন। অন্যদিকে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অভাবেই শিশুরা অতিরিক্ত মুটিয়ে যায়। শিশুদের অতিরিক্ত মুটিয়ে যাওয়ার মূল কারণ ক্যালরি।

শিশুদের অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায়, কারণ তারা দৈনিক যতটুকু ক্যালরি গ্রহণ করে, ততটুকু পোড়ায় না। ক্যালরি জমেই তা পরে রূপান্তর হয় স্থূলতায়। যেসব শিশু খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ করে না, তাদের ক্যালরি জমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে শহুরে শিশুরা শৈশবেই মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যায় বেশি ভোগে। কারণ খেলাধুলার পর্যাপ্ত খোলা স্থান না থাকায় তাদের খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম হয় না। তার ওপর কোমলপানীয়, ফাস্টফুড, ডেজার্টেও তারা আসক্ত। সঠিক সময়ে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে না আনলে পারলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা হূদরোগ, উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেসব শিশুর বয়স দশের নিচে, তাদের মুটিয়ে যাওয়া এড়াতে বাইরের খাবার যেমন চিপস, পেস্ট্রি, কোমলপানীয় খেতে অভ্যস্ত হতে দেয়া যাবে না, দুপুরে ১ ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে দেয়া যাবে না ও রাতে খাওয়ানোর পর পরই ঘুমাতে দেবেন না, তিন বেলা ক্যালরি মেপে খাওয়ান। পরিচিত ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে তিনবেলা খাবারের একটি চার্ট বানিয়ে নিন। শিশুকে বাইরে খেলাধুলা ও দৌড়ঝাঁপে উৎসাহী করুন। টিফিন হিসেবে মজাদার ও পুষ্টিকর এমন খাবার দিন। স্ন্যাকস হিসেবেও রাখুন স্বাস্থ্যকর খাবার। এক কাপ ছোলায় রয়েছে ৭২৯ ক্যালরি এবং ৩৯ গ্রাম প্রোটিন ও ৩৫ গ্রাম ফাইবার। বিকালে শিশুকে সবজি ও সালাদের সংমিশ্রণে এক কাপ ছোলা দিন। এটি দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিবারণে সহায়তা করবে। তাছাড়া ওজনটাও থাকবে ঠিকঠাক।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *