নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মর্টার শেল বিস্ফোরণে কিশোর নিহত
আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একটি পরিত্যক্ত মর্টার শেল বিস্ফোরণে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের এক কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম সতনাইং (১২)। সে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বালুখালী এলাকার বাইশফাড়ি পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা কিংলার ছেলে।
জানা গেছে, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ তুইঙ্গাঝিরি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার-৩৯ এর উত্তর-পূর্ব দিকে এবং শূন্যলাইন থেকে প্রায় ২০ গজ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অবস্থিত আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত মুরিঙ্গাঝিরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ২ টার দিকে সতনাইং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানকালে একটি পরিত্যক্ত অবিস্ফোরিত মর্টার শেল দেখতে পায়। কৌতূহলবশত সে মর্টার শেলটি পাথরের সঙ্গে আঘাত করলে তাৎক্ষণিকভাবে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী জনপদের বাসিন্দাদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এস এম কায়রুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেল নিয়ে নাড়াচাড়া করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই কিশোরটির মৃত্যু হয়।
সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগণকে অবিস্ফোরিত মর্টার শেল, মাইন বা সন্দেহজনক কোনো বস্তু দেখতে পেলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বিজিবিকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, সীমান্ত এলাকায় চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক অবশিষ্ট থাকতে পারে, যা যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় মাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের কারণে একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মৈত্রী/এইচএম

