বিনিয়োগের নিরাপত্তা’ই বিনিয়োগ বাড়াতে পারে

স্টফ রিপোর্টার

ব্যবসায়ী ও ব্যক্তির সম্পদবিষয়ক নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে পারলেই অর্থ পাচার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত। জনতা ব্যাংকের সাবেক এই চেয়ারম্যানের মতে, দেশের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা, রুগ্ন শিল্পকে সহায়তা বাড়াতে হবে এবং ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম কমিয়ে আনতে হবে। এজন্য সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে বসাতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের মতে, একটা দেশের টাকা আরেক দেশে যায়। হয়তো খুব কম দেশই আছে যাদের টাকা বাইরে যায় না। পৃথিবীর সব দেশ থেকেই কেউ না কেউ টাকা পাচার করে। যারা এই কাজ করে তারা উদ্যোক্তাও হতে পারে, উদ্যোক্তা নাও হতে পারে। হতে পারে আমলা, রাজনীতিক, সাংবাদিক বা অন্য যে কেউ। যেহেতু বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই কাজ করে সেহেতু নিশ্চয়ই বড় কোনো কারণ আছে এর পেছনে। কারণ সম্ভবত ‘অনিরাপদ বোধ করা’। তারা মনে করে তাদের অর্জিত বা গচ্ছিত অর্থ যে কোনো কারণেই বেহাত হয়ে যেতে পারে বা সংকটে পড়ে যেতে পারে। তাই তারা সীমানার বাইরে অন্য কোথাও সেই অর্থ সংরক্ষণের চিন্তা করে বা পাচার করে। অর্থাৎ যে সেন্স অব ইনসিকিউরিটি থেকে মানুষ পাচার করে সেই অনিরাপদ বোধ কমাতে পারলেই পাচার অনেকাংশে কমে আসবে।

আবুল বারকাত বলেন, বাংলাদেশে একটা কমন বিষয় হয়েছে ব্যাংকের ঋণ পেতেই ২০ পারসেন্ট ব্যয় করতে হয়। একজন ব্যবসায়ীর যদি ১০০ কোটি টাকা লোনের মধ্যে ২০ কোটি টাকাই দিয়ে দিতে হয় তাহলে তিনি ব্যবসা করবেন কীভাবে। ২০ শতাংশ ছাড়াই সেই লোনের টাকায় ব্যবসা করে মুনাফা ও সুদসহ ঋণ শোধ করা সহজ কথা নয়। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে। ঠিক ব্যক্তিকে ঠিক স্থানে বসাতে হবে। দেশপ্রেমিক লোককে কাজে লাগাতে হবে। ব্যবসায়ীর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। দেশের সব রুগ্ন শিল্পকে চাঙ্গা করতে উদ্যোগ নিতে হবে। সেই উদ্যোগ সফল বা ব্যাহত যে কোনো কিছু হতে পারে। কিন্তু চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই ৫০ হাজার কোটি বা ৭০ হাজার কোটি যত টাকাই পাচার হয়ে থাকুক না কেন সেই অঙ্ক কমে ১০ হাজার কোটিতে নেমে আসতে পারে। তখন ৪০ বা ৬০ হাজার কোটি টাকা দেশে কাজে লাগানো যেতে পারে।