কোকা-কোলার নতুন উদ্যোগ ‘বাংলা এখন, বাংলা তখন’

কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেড আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ‘বাংলা এখন, বাংলা তখন’ শিরোনামে ‘শেয়ার এ কোক’ থিম নিয়ে মাসব্যাপী ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। ভাষা দিবস পালনে এটি কোকা-কোলার পঞ্চম ধারাবাহিক উদ্যোগ। বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয় শেয়ার এ কোক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভোক্তারা তাদের প্রিয় পানীয় বন্ধু ও পরিবারের সাথে ভাগ করে নিতে পারে। কোক শেয়ার করে আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরির মাধ্যমে তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যকার সর্ম্পক উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখাই এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্যে।

বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের বয়স ২৪ বছরের কম। তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ভাব প্রকাশে বেশকিছু বাংলা শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করছে। যা ব্যবহারিক অর্থে ভিন্নতা নিয়ে এসেছে। যেমন- জটিল শব্দটি আজকাল তরুণেরা ‘খুব সুন্দর বা অসাধারণ’ বোঝাতে ব্যবহার করছে, আভিধানিকভাবে এর অর্থ যা ‘সহজ নয় বা গোলমেলে’। ভাষার এই বিবর্তন আমাদের শিকড়ের ধারকদের সাথে আমাদের ভবিষ্যতের চালকদের ভেতর অস্বস্তির জায়গা তৈরি করছে। যখন দুই প্রজন্মের মধ্যে ভাষার ব্যবহারে একটি ব্যবধান দেখা যাচ্ছে, তখন সেরা স্বাদের কোকা-কোলা দুই প্রজন্মের মধ্যে দূরত্ব কমাতেই নিয়ে আসা হয়েছে, ‘বাংলা এখন, বাংলা তখন’ কোকা-কোলার এই ক্যাম্পেইন দুটি প্রজন্মের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করবে এবং বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ পথচলাকে করবে আরো মসৃণ।

ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে, প্রতিটি কোকা-কোলা বোতলে একটি করে বাংলা শব্দ সমসাময়িক ব্যবহারিক অর্থ ও আভিধানিক অর্থসহ লেবেলে দেখা যাচ্ছে এবং কোকা-কোলা এ রকম ২১টি শব্দ ব্যবহার করছে। এ ধরনের শব্দগুলোর মধ্যে রয়েছে; ব্যাপক, জটিল, কড়া, প্যারা, ভাব এর মতো আরো অনেক শব্দ। এই ক্যাম্পেইনকে আমাদের তরুনদের মাঝে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোকা-কোলা আরো আয়োজন করছে সারাদেশব্যপী বাংলা ভাষা নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার। সারাদেশের ১৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই বিতর্ক প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহন করবে।

এছাড়াও ক্যাম্পেইনের আরো থাকছে থিম সং, টিভি বিজ্ঞাপন, কুইজ, ডিজিটাল অ্যাক্টিভেশসহ এবং আরো অনেক কিছু। কোকা-কোলার (www.coca-cola.com.bd/21) ওয়েবসাইটে ভিজিটরেরা কুইজ এবং গেমসে অংশ নেওয়া

ছাড়াও ২১টি শব্দের দুই ধরনের অর্থের সাথে সাথে তারা সহমত পোষণ করেন কিনা তা হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে জানাতে পারবেন।
কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেড এর পক্ষ থেকে শামীমা আক্তার এই ক্যাম্পেইন সর্ম্পকে বলেন, ‘এই মহৎ উদ্যেগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। কোকা-কোলা ধারাবাহিকভাবে বাংলা ভাষার জন্যে কাজ করে চলেছে। আমরা বিশ্বাস করি এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভালবাসা, সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের বন্ধনে তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের সর্ম্পককে দৃঢ় করবে।

শেয়ার এ কোক ক্যাম্পেইনটি সর্বপ্রথম ২০১১ সালে অস্ট্রেলিয়াতে শুরু হয় এবং ভোক্তারা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে তাদের প্রিয় পানীয় শেয়ার করার পারে। প্রজেক্ট কানেক্টের আওতায় অস্ট্রেলিয়া জুড়ে প্রচলিত ও জনপ্রিয় ১৫০টিরও বেশি নাম নিয়ে শেয়ার এ কোক লোগোটির যাত্রা শুরু হয়। এই ক্যাম্পেইন ব্যক্তি সম্পর্কটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, যে কারণে সকল বয়সের অস্ট্রেলিয়ানরা কোকা-কোলার এই প্রজেক্টে আলোড়িত হন। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তী বছরগুলোতে শেয়ার এ কোক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে অতি সহজেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে জনপ্রিয় মুভি ডায়ালগ, চলচ্চিত্রের সংলাপ, গানের কলি কোকের বোতলে স্থান করে নেয় এবং তা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের উষ্ণতা তৈরি করতে সহায়তা করে। যুক্তরাজ্যে ২০১৩ সালে জনপ্রিয় মানুষের নামসমূহ নিয়ে শেয়ার এ কোক প্রজেক্ট যাত্রা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে বোতলের লেবেলে পৃথিবীর জনপ্রিয় সব পর্যটন কেন্দ্র ও শহরের নাম স্থান করে নেয়।

কোকা-কোলা বাংলাদেশ জুড়ে হাজার হাজার ভোক্তার কোমলপানীয়ের চাহিদা পূরণ করছে, যা তাঁদের সতেজ ও চনমনে থাকতে বেশ সহায়ক। কোকা-কোলার পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে কোকা-কোলা, ডায়েট কোক, স্প্রাইট, ফান্টা, কিনলে সোডা, কোক জিরো, স্প্রাইট জিরো, রিমঝিম, থাম্স আপ চার্জড ও ফান্টা লিচি ইত্যাদি। কোকা-কোলা এদেশে ৫ শতাধিক লোকের সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে আরও ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কোকা-কোলা নানা ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে কমিউনিটি বা সমাজকে শক্তিশালী করে তোলার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি কর্মসূচি হলো এভরি ড্রপ ম্যাটারস ও ওয়াশ। এ দুটি কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন বা পয়ঃনিষ্কাশন, হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধি বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং স্কুলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া কোকা-কোলা বাংলাদেশে উইমেন বিজনেস সেন্টার নামে তার ব্যতিক্রমধর্মী ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে।