যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, আবাসন ও শিক্ষার নানা সুযোগ

যোগ্যতা সম্পন্ন লোকজন ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েবার প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে এবং স্থায়ীভাবে বসবাসেরও সুযোগ লাভ করতে পারে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্যও রয়েছে অনেক সুযোগ-সুবিধা।
নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্ট করপোরেশন আয়োজিত এক সেমিনারে ফোরডহাম ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক কম্পিউটার প্রকৌশলী ড. জাকিরুল আলম ভূঁইয়া মূল আলোচকের বক্তব্যে এ তথ্য জানান।
বাঙালি অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের স্টার্লিং-বাংলাবাজার এলাকায় মামুন’স টিউটোরিয়ালে ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় প্রবাসীদের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। হিউম্যান সাপোর্ট করপোরেশন ও বাংলাদেশি-আমেরিকান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক সোসাইটি ইউএসএর সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক মো. সোলায়মান আলীর পরিচালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুরাদ আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হারুনুজ্জামান ভূঁইয়া ও কমিউনিটি বোর্ড ৭ এর চেয়ারপারসন এডালিনা ওয়াকার সান্তিয়াগো।

সেমিনারে অন্য আলোচকদের মধ্যে ছিলেন লেহম্যান কলেজের প্রভাষক কম্পিউটার প্রকৌশলী সাফিউল রনি, নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র সহকারী তানজিলা রহমান, মামুন’স টিউটোরিয়ালের প্রিন্সিপাল ও মূলধারার গণিত শিক্ষক শেখ আল মামুন, রিয়েল এস্টেট ব্রোকার, ট্যাক্স-ইমিগ্রেশন ও মাল্টি সার্ভিস প্রোভাইডার মো. সোলায়মান আলী এবং সিপিএ রহমান।
মূল আলোচক ফোরডহাম ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. জাকিরুল আলম ভূঁইয়া আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ ও অভিবাসন সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় ড. জাকিরুল নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে এসে চার মাসের মধ্যেই গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। তথ্যমূলক বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, যোগ্যতা সম্পন্ন লোকজন দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েবার প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারে এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ লাভ করতে পারে।
লেহম্যান কলেজের প্রভাষক ইঞ্জিনিয়ার সাফিউল রনি শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার বিকল্প নেই। উপযুক্ত শিক্ষাই তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সন্তানরা পড়াশোনায় খুবই ভালো করছে। নতুন প্রজন্মকে উচ্চ শিক্ষার্জনের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করতে হবে। এতে নিজেদের জীবন যেমন সুন্দর সার্থক হবে, পাশাপাশি দেশের জন্যও সুনাম অর্জন হবে।


নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ সহকারী তানজিলা রহমান ফ্রি ট্যাক্স ফাইলিংসহ সিটির নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ফ্রি ট্যাক্স ফাইল, ক্রেডিট সমস্যা সমাধান সহ সিটির শতাধিক প্রোগ্রাম চালু রয়েছে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। ৩১১ কল করে নিজ ভাষাতেও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার কথা জানার সুযোগ রয়েছে।
সেমিনারে সিপিএ রহমান ইনকাম ট্যাক্স বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ট্যাক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পেশাদার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক সকলের ট্যাক্স ফাইল করা উচিত। সামান্য ভুল বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি জানান, এবার চাইল্ড ক্রেডিট জনপ্রতি ২০০০ ডলার হলেও ১৪০০ ডলার পাওয়া যাবে। এ বছর পার্সোনাল এগজাম্পশন কমেছে। অপেক্ষাকৃত কম ইনকাম ট্যাক্স ফাইলাররা বেশি সুবিধা পাবেন।


রিয়েল এস্টেট ব্রোকার, ট্যাক্স-ইমিগ্রেশন ও মাল্টি সার্ভিস প্রোভাইডার মো. সোলায়মান আলীর আলোচ্য বিষয় ছিল স্বপ্নের ঘর-বাড়ির ক্রেতা-বিক্রেতার নানা সুযোগ-সুবিধা। তিনি বলেন, অনেকেই জানে না রেন্ট টু বাই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করেও বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগের কথা। স্বল্প মূল্যের কো-অপ যেমন মাত্র ২০/২৫ হাজার ডলার দিয়ে কেনা সম্ভব। কো-অপে রয়েছে নানান সুবিধা। তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য হাউজিং সাবসিডি, বা অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স পারিবারিক সমস্যার জন্য হাউজিং সুবিধা, অসুস্থ, পঙ্গু, হেপাটাইটিস বি, এইডসের রোগীসহ সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে আবাসিক সুবিধা। এনএইচএস (niborhood housing service-NHS website) থেকে প্রথম বায়ারদের ৩০ থেকে ৬০ হাজার ডলারের অফেরতযোগ্য অনুদানের বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে সোলায়মান আলী বলেন, বেলভিউ হাসপাতালের মানসিক রোগী পরিচর্যা বিষয়ক টেকনিশিয়ান আনোয়ারা বেগম ৭০ হাজার ডলারের কো-অপ কিনে ৩০ হাজার ডলার সরকারি অফেরতযোগ্য অনুদান পেয়েছেন।


সেমিনারে শিক্ষক শেখ আল মামুন শিক্ষা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি কলেজ রেডিনেস, স্কলারশিপ, ফাইন্যান্সিয়াল এইড, স্টুডেন্ট লোন, এসএটি, রিজেন্টস টেস্ট, বিশেষায়িত হাইস্কুলে ভর্তি পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, মা-বাবারা স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ভালোভাবে নজর দিলে তারা কলেজজীবনে বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ লাভ করতে পারে।
উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আয়োজকেরা বলেন, ক্রমবর্ধমান ব্রঙ্কস কমিউনিটির সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সেমিনারটির আয়োজন করা হয়।


সেমিনারে কমিউনিটির নেতাদের মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম বাদশা, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশি-আমেরিকান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক সোসাইটি ইউএসএর সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ও কফিল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শামীম মিয়া, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের সভাপতি শাহেদ আহমেদ, হিউম্যান সাপোর্ট করপোরেশনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার সেন, নর্থ বেঙ্গল সোসাইটির সহসভাপতি আবু পাশা, লেখক প্রদীপ কুমার মালাকার, জীবন কৃষ্ণ মন্ডল, আ. মুহিত প্রমুখ। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী সেমিনারে যোগ দেন।
সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশি-আমেরিকান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক সোসাইটি ইউএসএ ইন্‌ক ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *