ইউরোপে বাজার সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে অপো
চীনভিত্তিক স্মার্টফোন নির্মাতা অপো ইউরোপে হ্যান্ডসেট ব্যবসা সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন ইউরোপের সম্ভাব্য যে বাজারগুলোয় কার্যক্রম শুরুতে জোর দিচ্ছে, সে তালিকায় আছে জার্মানি, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও ইউক্রেন। খবর রয়টার্স।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে বিক্রির হিসেবে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে অপো। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে অপোর স্মার্টফোন বিক্রি ৩ কোটি ১৬ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে এবং এর বাজার দখল পৌঁছেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশে।
মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে (এমডব্লিউসি ২০১৯) অপোর বৈশ্বিক ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালেন উ বলেন, ২০১৮ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তারা স্পেন ও ব্রিটেনসহ ইউরোপের অন্তত ১০টি বাজারে কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ইউরোপের বাকি বাজারগুলোয় কার্যক্রম শুরুর জন্য আমরা এখন গবেষণা ও হোমওয়ার্ক চালাচ্ছি। এর মাধ্যমে জার্মানি, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও ইউক্রেনের ডিভাইস বাজারের পরিস্থিতি এবং গ্রাহকপ্রবণতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত কিছুদিন বাজারগুলোর টেলিকম কেরিয়ার প্রতিষ্ঠান এবং খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি। এসব প্রতিষ্ঠান অপোর জন্য সহযোগিতার হাত বিস্তৃতির আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) তথ্যমতে, স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ দুই বাজার চীন ও ভারতে দারুণ সাড়া ফেলেছে অপো। স্থানীয় ও ভারতের বাজারে স্যামসাং-অ্যাপলের মতো ডিভাইস জায়ান্টদের টেক্কা দিতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গুরুত্বপূর্ণ দুই বাজারের সাফল্যে উদ্দীপ্ত অপো এখন ইউরোপের বাজারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে।
সদ্যসমাপ্ত প্রযুক্তিপণ্যের বড় প্রদর্শনী এমডব্লিউসিতেও চমক দিয়েছে অপো। স্যামসাং ও স্বদেশী প্রতিদ্বন্দ্বী হুয়াওয়ের সঙ্গে টেক্কা দিতে ফাইভজি ফোন প্রদর্শন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইউরোপে নতুন হলেও এশিয়ার বাজারে এরই মধ্যে অ্যাপলকে পেছনে ফেলেছে অপো। ইউরোপে খুব অল্পসংখ্যক মানুষ চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা অপো সম্পর্কে জানলেও এশিয়ার অন্যতম স্বীকৃত ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে অপো। বিশেষ করে স্মার্টফোনের অন্যতম বৃহৎ দুই বাজার চীন ও ভারতে এরই মধ্যে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে ব্র্যান্ডটি।
চীনে শুধু দৃঢ় অবস্থানই নয়; দেশটির দ্বিতীয় বৃহৎ স্মার্টফোন নির্মাতার তকমাটিও এখন অপোর দখলে। দেশটির স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষ অবস্থানে আছে হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেড। চীনের পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান ভারতের স্মার্টফোন বাজারেও শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে অপো। ভারতের বাজারে অ্যাপল এখন পর্যন্ত সুবিধাজনক ব্যবসায় পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। দেশটিতে আধিপত্য বিস্তারে পুনর্মার্জিত (রিফারবিশ) হ্যান্ডসেট বিক্রির কার্যক্রম চালু করেছে অ্যাপল। পাশাপাশি আইফোনের পুরনো ও সাশ্রয়ী সংস্করণগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু ভারতে তৈরি আইফোনের দামও বিকল্প ব্র্যান্ডগুলোর ডিভাইসের দামের প্রায় দ্বিগুণ। যে কারণে ভারতের বাজারে সুবিধা করতে পারছে না অ্যাপল।
চীন ও ভারতের বাজারে অপোর সাফল্যের জন্য এর বিপণন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও চতুর মূল্যনির্ধারণী কৌশলের সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এখন ইউরোপেও একই কৌশলে ব্যবসা সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

