বাঙালির গর্ব মহাকাশে জয় বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক লিগ্যালভয়েস নিউজ : যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এত ভালো সে দেশে একটি মাত্র স্যাটেলাইট নির্ভরযোগ্য নয়। আমাদের টার্গেট এই মেয়াদেই দ্বিতীয় স্যাটেলাইট পাঠানো। দুর্যোগকালীন যেন বিকল্প সেবা দেয়া সম্ভব হয় সেটা মাথায় রেখেই দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হলে দুটিরই তখন বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়বে। বাঙালির মহাকাশ বিজয় এক সময়ে হয়তো স্বপ্নই ছিল। শিশুদের আমরা ঘুম পাড়ানি গান শুনিয়ে স্বপ্ন দেখার জগতে নিয়ে যেতাম। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই- আমরা স্বপ্নে না বাস্তবে মহাকাশে বিচরণ করি।

গত সপ্তাহে কলামে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে প্রাথমিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এবার এর অবশিষ্ট আলোচনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নিয়েও কিছু কথা বলব।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ : ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি আমন্ত্রণ, ২ জানুয়ারি শপথ ও ৩ জানুয়ারি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম যে বিষয়টি মাথাটা এলোমেলো করে দেয় সেটি হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আকাশে উৎক্ষেপণ করা। প্রথম দিন থেকেই প্রতিদিন একটি করে উৎক্ষেপণ করার তারিখ পাচ্ছিলাম। টের পাচ্ছিলাম যে এই মহাযজ্ঞ সম্পন্ন করা মন্ত্রিত্বের প্রথম অগ্নিপরীক্ষা।

আমার সৌভাগ্য যে, আমার সঙ্গে একদল দেশপ্রেমিক, সক্রিয় সহকর্মী ছিলেন যাদের নিয়ে এই কাজটি সফলভাবে করা যায়। আমাদের প্রথম পরিকল্পনা ছিল বাঙালির এই মহাকাশ বিজয়কে দুভাবে আমরা উদযাপন করব। একটি দিক হবে আমেরিকায় উৎক্ষেপণের জন্য একটি বিশাল প্রতিনিধিদল পাঠানো।

কথা ছিল দলটির নেতৃত্ব দেব আমি। কিন্তু দ্বিতীয় আয়োজনটির প্রয়োজনে এবং বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রদানের জন্য আমি নিজে সরে দাঁড়াই। সর্বশেষ দিনক্ষণ স্থির হয় যে ৭ মে এটি উৎক্ষেপণ হবে এবং ৮ মে আমরা ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিজয় উৎসব করব। কিন্তু কারিগরি কারণে ৭ মে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব নয় বলে আমরা ৮ মের প্রোগ্রাম বাতিল করে পরে আয়োজন করি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস এক্সকে দায়িত্ব দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবার নিরলস পরিশ্রম শেষে বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’,

উৎক্ষেপণের জন্য চূড়ান্তকৃত দিনক্ষণ অনুযায়ী গত ১১ মে ২০১৮ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেল ৪:১৪ মিনিট অর্থাৎ ১২ মে ২০১৮ বাংলাদেশ সময় রাত ২:১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেইপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত লঞ্চপ্যাড থেকে লঞ্চ ভেহিকেল ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়।

সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। কথা ছিল স্যাটেলাইট উদ্বোধনের পরের দিন আমরা দেশে একটি জাতীয় উৎসব উদযাপন করব। যথাসময়ে উৎক্ষেপণের কাজটি না হওয়ার ফলে আমরা সেই অনুষ্ঠানটি দেরিতে করি। গত ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি করে আমরা বাংলাদেশেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ জাতীয়ভাবে উদযাপন করি।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোন কাজে লাগবে : সংক্ষেপে জানা যেতে পারে যে, এই স্যাটেলাইট আমাদের কোন কোন কাজে লাগছে। ১.বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উন্নত টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক ডিজিটাল সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের সরাসরি শহরের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে না গিয়েও রোগীর টেস্ট রিপোর্ট এক্সরে-ইমেজ ইত্যাদি তথ্য ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেয়ার করে চিকিৎসাসেবা নেয়ার জন্য যে টেলি-মেডিসিন প্রযুক্তি আছে তাও সম্ভব হবে এ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে।

যেহেতু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কভারেজ দেশের সর্বত্র বিদ্যমান তাই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, চরাঞ্চল ও দ্বীপেও এসব সেবা প্রদান করা যাবে। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দূরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত প্রফেসরের ক্লাস ই-লার্নিং বা ই-এডুকেশন পদ্ধতিতে ঘরে বসে সম্পন্ন করা যাবে। দেশে ব্যাপকভাবে ডিজিটাল কানেক্টিভিটির প্রসার ঘটার পরও দুর্গম এলাকার জন্য স্যাটেলাইটের সহায়তা খুবই প্রয়োজনীয় হবে।

একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য বিপর্যয়ের সময় স্যাটেলাইট খুবই প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। ২. কোনোরূপ ক্যাবল সংযোগ ছাড়াই ঘরে রিসিভার যন্ত্র স্থাপন করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম) প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্যাটেলাইট টিভির বিভিন্ন চ্যানেল দেখা যাবে।

ডিটিএইচসহ স্যাটেলাইটভিত্তিক নতুন সেবার মাধ্যমে নতুন আয়ের সুযোগ হবে এবং এসব বিভিন্ন সেবায় লাইসেন্স ফি ও স্পেকট্রাম চার্জ বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। ৩. যেসব স্থানে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব নয় অথবা রেডিও ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক নেই সেসব জল ও স্থল সীমায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবা প্রদান করা যাবে।

৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ অর্থাৎ ঝড়, বন্যা বা ভূমিকম্পে টেলিযোগাযোগের জন্য ব্যবহƒত অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক বা ট্রান্সমিশন টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হবে। ৫. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য এবং ২০টি দেশের বাইরের জন্য ব্যবহার করা যাবে।

এ ২০টি ট্রান্সপন্ডার লিজ বা ভাড়া প্রদান করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। অর্থাৎ বর্তমানে যেখানে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে তার পরিবর্তে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হবো। ৬. বর্তমানে বিটিভি ওয়ার্ল্ডসহ দেশের সব ক’টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল অনুষ্ঠানসূচি সম্প্রচারের জন্য বিদেশি স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে বিদেশি নির্ভরশীলতা আর থাকবে না এবং বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ প্রদেয় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে।

৭. স্যাটেলাইট টেকনোলজি ও সেবার প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে যা দেশের বেকারত্ব কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। সর্বোপরি স্পেস টেকনোলজির জ্ঞানসমৃদ্ধ একটি মর্যাদাশীল জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট অনবদ্য ভূমিকা রাখবে।

‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর ৫৭তম দেশ হিসেবে গৌরব অর্জন করায় বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে মহাকাশ প্রযুক্তি ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এর ফলে সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ভূমিকা হবে সুদূরপ্রসারী।

হেনরি কিসিঞ্জারের তলাহীন দেশটি আজ তার স্যাটেলাইটটির গায়ে জয় বাংলা লিখে মহকাশে উড্ডয়ন করতে পেরেছে; সেটি পুরো জাতির জন্য এক মহাগৌরবের। আমার নিজের কাছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে তিনটি বিশেষ অহঙ্কারের বিষয় আছে। প্রথমত, এই প্রকল্পটি আমরা নির্ধারিত বাজেটের কমে সম্পন্ন করতে পেরেছি।

দ্বিতীয়ত, এটি সর্বোচ্চ ১৫ বছর চলমান থাকার কথা থাকলেও এখনকার মূল্যায়ন অনুসারে এর আয়ু ১৮ বছর হবে। তৃতীয়ত, এই স্যাটেলাইটটি পরিচালনা করছে আমাদের সন্তানরা। এবার আমরা স্বপ্ন দেখতেই পারি যে, শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ মহাকাশে প্রেরণ করব।

আমাদের বড় সুবিধা হচ্ছে যে, আমাদের সন্তানরা পরের স্যাটেলাইট যেমন চালাতে পারবে তেমনি আমাদের নতুন করে উপগ্রহ ভূকেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে না এবং প্রধানমন্ত্রী সামগ্রিক বিবেচনায় মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চার জন্য দেশের প্রথম অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনও পাস করেছেন। কৃতজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি যিনি কেবল স্যাটেলাইট করেননি এর ভবিষ্যৎটাও নির্ধারণ করেছেন। আমি আশা করি সহসাই আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২-এর কাজ শুরু করব।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ : সবাই জানেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ আকাশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ও তার পরের ধারাবাহিকতা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সরকারের মেয়াদেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে।

মূলত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর ব্যাকআপ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। সে প্রতিবেদনে আমি বলেছি, এতদিন শুধু কথা হচ্ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ মহাকাশে যাবে। এবার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এখন চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের বেলায় অনেক কিছু মাথায় রাখতে হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হলো কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট।

কিন্তু শুধু কমিউনিকেশনের জন্য পাঠালে এবার চলবে না। দেশের জন্য আবহাওয়া, জলবায়ুর তথ্য দিতে পারবে, জিআইএস তথ্য দিতে পারবে এমন স্যাটেলাইট পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট পাঠিয়েছি। কিন্তু কমিউনিকেশনই আমার একমাত্র কাজ নয়। আবহাওয়াসহ আরো অনেক কিছু আমাকে স্যাটেলাইট দিয়ে করতে হবে। যে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এত ভালো সে দেশে একটি মাত্র স্যাটেলাইট নির্ভরযোগ্য নয়।

আমাদের টার্গেট এই মেয়াদেই দ্বিতীয় স্যাটেলাইট পাঠানো। মেয়াদ মাত্র শুরু হয়েছে, দীর্ঘ সময় পড়ে আছে। আমাদের বড় সুবিধা হলো প্রথম স্যাটেলাইটের মতো বিভিন্ন ফ্যাসিলিটিস আমাকে নতুন করে তৈরি করতে হবে না। কোম্পানি তৈরি করতে হবে না, গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করতে হবে না, অরবিটাল স্লট ভাড়া করতে হবে না- ফলে কাজটা অনেক সহজ হবে।

সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, আমাদের যে অরবিটাল স্লট আছে সেখানে পাশাপাশি দুটি স্যাটেলাইট রাখা যাবে। কী স্যাটেলাইট হবে এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। তবে কমিউনিকেশন বিষয়টি অবশ্যই থাকবে। এই মুহূর্তে জিডিটাল সার্ভে, জরিপ করতে গেলে আমাদের স্যাটেলাইট প্রয়োজন হবে। দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করলেই আমরা এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারব।

স্যাটেলাইট-২-এর জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে আরো চারটি স্লট চেয়ে আবেদন করে রেখেছে বাংলাদেশ। ৬৯, ৭৪ ও ১০২ ডিগ্রি পূর্বতে দুটিসহ চারটির জন্য আইটিইউর কাছে আবেদন করা হয়। দুর্যোগকালীন যেন বিকল্প সেবা দেয়া সম্ভব হয় সেটা মাথায় রেখেই দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হলে দুটিরই তখন বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়বে। বাঙালির মহাকাশ বিজয় এক সময়ে হয়তো স্বপ্নই ছিল। শিশুদের আমরা ঘুম পাড়ানি গান শুনিয়ে স্বপ্ন দেখার জগতে নিয়ে যেতাম। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই- আমরা স্বপ্নে না বাস্তবে মহাকাশে বিচরণ করি।

মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও কলাম লেখক।