ফ্যাক্ট অ্যান্ড ফিগার দিন- দুদক চেয়ারম্যান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ‘দুর্নীতির ধারণাসূচক’-এ ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থানে ছয় ধাপ অবনমন ঘটেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে দুর্নীতি বৃদ্ধির পেছনে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, আমাদের দুর্বল বলাটা ভুল, বরং ওনারাই দুর্বল। আমরা সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন। আজ পর্যন্ত আমি কখনই বলিনি যে, আমরা স্বাধীন নই। আমাদের যে ম্যান্ডেট আছে আইনে, আমরা সেই আইন নিয়ে যাচ্ছি (দুর্নীতিগ্রস্তদের কাছে)। কেউ তো আমাদের বাধা দিচ্ছে না।

রাজধানীর সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সময় টিআইবিকে পরামর্শ দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, সরকার বা রাষ্ট্রের বা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভালো কাজটা আপনারা মূল্যায়ন করবেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো কাজগুলোকে যদি আপনি না বলেন, শুধু খারাপটাই বলতে থাকেন, তা হলে সেটা আর প্রতিষ্ঠান হতে পারবে না। টিআইবি তখনই একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, যখন ভালো-খারাপ দুটোই বলবে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, প্রতিবছরই টিআইবি এ রিপোর্ট তৈরি করে। টিআইবিকে অনেক আগেও আমরা বলেছি যে, আপনারা আপনাদের মেথডলজি আমাদের জানান। আপনারা ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগার দিন। আমরা এখনো রিপোর্ট পাইনি, পেলে ভালো হতো। তিনি বলেন, আপনি যখন কাউকে জিজ্ঞাসা করবেন, ভাই দেশে কোনো দুর্নীতি আছে কিনা। তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, দেশে অনেক দুর্নীতি। কিন্তু এটাও তো সত্য, সারাদেশে দুর্নীতির ব্যাপারে জনসাধারণ সচেতন হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং যারা দুর্নীতির কাছাকাছি থাকেন বা যাদের সুযোগ থাকে, আমরা তো মনে করি তারা অনেক সচেতন হয়েছেন। এ সচেতনতাই প্রমাণ করে দুর্নীতি আসলে নিম্নগতির দিকেই।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অনেকে টকশোতে বলেন, এটা কী দুদকের কাজ? আরে মামলা করেন না দুদকের বিরুদ্ধে যে, দুদক এটা বেআইনি করেছে। আমরা সেটা কোর্টে ফেস করব। আমরা মোটেও ভীত নই। ওনারা (টিআইবি) সঠিক বলেননি,

আমরা স্বাধীন। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, আমরা অনেক বড় দুর্নীতিবাজকে ধরতে পারিনি। উদাহরণস্বরূপ, দুর্নীতিবাজ এখন যদি লন্ডনে বসে থাকে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, শুধু টিআইবির রিপোর্ট দিয়ে তো আর কাজ হবে না। আর শুধু দুর্নীতি দমন কমিশন দিয়ে দুর্নীতি কমানো, সেটাও হয়তো সম্ভব নয়। সবাই মিলে একসঙ্গে সমন্বিতভাবে যদি কাজটা না করি, সে ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন বা কমানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, টিআইবি বলেছে দুর্নীতি বেড়েছে। সেই বাড়ার কারণ কী এবং সেই কারণগুলোকে অ্যাড্রেস করার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, নিশ্চয়ই টিআইবি সেটাও বলবে। যদি টিআইবির রিপোর্টে সেটা না থাকে, তা হলে এ রিপোর্ট কোনোক্রমেই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, টিআইবি বলেছে, আমরা অভিনন্দন জানাই। তবে আমরা তাদের কাছে ব্যাখ্যাটা চাই। আপনারা কেন বললেন? দুর্নীতি কোথায় কোথায় বেড়েছে এসব ফ্যাক্ট ফিগার আপনাদের কাছে আছে কিনা এবং যে সব কারণে দুর্নীতি বেড়েছে, তার বিশ্লেষণ আপনাদের কাছে আছে কিনা। এগুলো যদি বলতে পারেন, তবে আমরা আমাদের কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন করতে পারব।