সাবেক মন্ত্রীসহ দুইজনের নামে দুদকের চার্জশিট

ঢাকা, লিগ্যাল ডেস্ক : সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ দুইজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে
আসামি ১) আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং ক্রেতা আসামি ২)বেগম জাহানারা রশিদ পারস্পারিক যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তিস্বার্থে আর্থিক লাভবান হওয়ার জন্য অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই বেআইনিভাবে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের জমি বিক্রয় করে সরকারের ৪০,৬৯,০২১/১১ টাকা আর্থিক ক্ষতি সাধনের অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, আসামি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মন্ত্রী হিসেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তিস্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে গত ১১/৫/২০১০ হতে ৩০/১২/২০১২ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশন (বিজেসি‘র) আওতাধীন সরকারি সম্পত্তি বিক্রয়ের নীতিমালা ভঙ্গ করে উন্মুক্ত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে কমপক্ষে ৬৪,৬৩,৭৯৫/১১ টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি আসামি বেগম জাহানারা রশিদ এর নিকট বেআইনিভাবে ২৩,৯৪,৭৭৪/- টাকায় বিক্রয় করে পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারি ৪০,৬৯,০২১/১১ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করেন।
এবং বেগম জাহানারা রশিদ বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের সুরুজমল আগরওয়ালা (রানী নগর ক্রয় কেন্দ্র) নামীয় ২.৩৮ একর সরকারি সম্পত্তি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ গ্রহণের জন্য গত ১১/৫/২০১০খ্রিঃ তারিখে তাঁর পূর্ব পরিচিত আসামি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মন্ত্রী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বরাবরে আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে উক্ত সম্পত্তি হলে ৩০ (ত্রিশ) কর্ম দিবসের মধ্যে ০১ (এক) বছরে ভাড়ার অগ্রিম ১,২০,০০০/- টাকা বিজেসি এর অনুকূলে জমা প্রদান করে ভাড়া চুক্তি সম্পাদনের শর্র্তে বরাদ্দ প্রদান করা হয়।
কিন্তু তিনি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ০১ (এক) বছরে ভাড়ার অগ্রিম ১,২০,০০০/- টাকা পরিশোধ কিংবা ভাড়া চুক্তিপত্র সম্পাদন না করে উক্ত সরকারি সম্পত্তি মূল্যায়িত দরের ২% অধিক মূল্যে ক্রয়ের জন্য গত ২৩/১১/২০১১খ্রিঃ তারিখে আসামি আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মাননীয় মন্ত্রী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বরাবরে পুনরায় আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজেসি‘র আওতাধীন সরকারি সম্পত্তি বিক্রয়ের নীতিমালা ভঙ্গ করে উন্মুক্ত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই মন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে কমপক্ষে ৬৪,৬৩,৭৯৫/১১ টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি ২৩,৯৪,৭৭৪/- টাকায় ক্রয় করেন । এভাবেই সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন হয়।

এ বিষয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম ১৭ অক্টেবর, ২০১৭ তারিখে বাদী হয়ে আদমদীঘি (বগুড়া) থানায় মামলাি দায়ের করেন।
তিনি বলেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তাও তিনি। শীঘ্রই এই মামলার চার্জশিট সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করা হবে।