সীমান্ত নিরাপত্তায় ঐক্যের আহ্বান
ঘুমধুমে দুস্থদের পাশে ৩৪ বিজিবি
আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) :
মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সীমান্ত জনপদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কক্সবাজারস্থ ৩৪ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বাহিনীটি। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারস্থ ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম। অনুষ্ঠানে এলাকার অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের মাঝে সেলাই মেশিন, চাল, শিশুদের খেলনা সামগ্রী এবং নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমেও জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করছে বাহিনীটি।
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যেসব মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, তারা কারো বাবা, ভাই কিংবা পরিবারের প্রিয়জন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা কিংবা এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিজিবি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে। এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত। জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালনে বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিমন রুদ্র, ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মঈন উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হায়দার আলী কোম্পানিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য ৩৪ বিজিবির এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এতে একদিকে যেমন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে, অন্যদিকে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিজিবির পারস্পরিক সম্পর্ক ও আস্থার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে তারা মনে করেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ৩৪ বিজিবির এ ধরনের কার্যক্রম সীমান্ত জনপদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও স্থানীয়রা অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিএনএনিউজ/এইচ.এম।

