বন্যায় দুর্গত মানুষদের ৮০ হাজার প্লেটের বেশি খাবারের যোগান দেয় বান্দরবান পৌরসভা
মো. হাসান মুন্না।।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে টানা অতিবর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্যার কবলে পড়ে বান্দরবানের একটি বড় অংশ। আকস্মিক এই দুর্যোগে তলিয়ে যায় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নেয় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে।
তবে চরম এই দুর্যোগের মাঝেও বান্দরবান পৌরসভার সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি মিলেছে বান্দরবানবাসীর। বন্যার প্রথম দিন থেকেই হাজার হাজার আশ্রয়হীন মানুষের খাবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় বান্দরবান পৌরসভা।
প্রতিদিন দুই বেলা করে ৭ দিনে প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ প্লেট খাবার বিতরণ করেছে বান্দরবান পৌরসভা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় টানা ৭ দিনে মোট ১৪ বেলায় সর্বমোট ৮০ হাজার ৫০০ প্লেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বান্দরবান বাস স্টেশন সংলগ্ন ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন’ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মো. ওসমান তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “আমাদের বাসায় চাল পর্যন্ত পানি উঠেছে। নিরুপায় হয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছি। তবে পৌরসভা থেকে প্রতি বেলায় বড় ডেসকি করে খাবার পাঠানো হয়েছে। তাই এই বিপদের দিনেও আমাদের খাবার নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয়নি।”
জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড ভিশনের মতো আরও ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন দুই বেলা করে বন্যার্তদের খাবারের ব্যবস্থা করেছে বান্দরবান পৌরসভা।
বান্দরবান পৌরসভার পৌর প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক দৈনিক সচিত্র মৈত্রীকে বলেন, “যখন থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয় এবং বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছিল, তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা সাধারণ মানুষের খাবারের ব্যবস্থা পৌরসভাই করবে। আগে থেকে আমাদের প্রস্তুতি থাকায় বন্যার প্রথম দিন অর্থাৎ ৮ জুলাই দুপুর থেকেই বন্যার্তদের মাঝে খাবার বিতরণ শুরু করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বান্দরবান পৌরসভায় মোট ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ম করে দুই বেলা খাবার পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরেও আরও ১৫ থেকে ১৬টি স্পটে বন্যার্তরা আশ্রয় নিয়েছিলেন, পৌরসভা থেকে সেসব জায়গাতেও খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
খাবার বিতরণের পাশাপাশি বান্দরবান পৌরসভা দুর্গতদের যাতায়াত ও সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নেয়। বন্যায় যাতায়াতের সুবিধার্থে ৭টি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পানিবন্দি অসহায় মানুষকে উদ্ধার এবং চলাচলের কাজে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিল। এ ছাড়া, বন্যার কারণে তৈরি হওয়া সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় পৌরসভার ৩টি পানির গাড়ির মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ বন্যা কবলিত এলাকায় নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে।
জরুরি এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বান্দরবান পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু আবদুল্লাহ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন চৌধুরী আরমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এস. এম. নাজিম উদ্দিন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা করুণা কান্তি বড়ুয়াসহ স্থায়ী ও অস্থায়ী প্রায় ১৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করায় এখন চলছে পুনর্বাসন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। বন্যাকবলিত এলাকার সড়কগুলোতে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও পলি অপসারণের কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেজন্য স্বশরীরে উপস্থিত থেকে সরেজমিনে পুরো কার্যক্রম তদারকি করছেন পৌর প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক।

