খবরনির্বাচিত

বান্দরবানে এনসিপি-জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) দুপুর ১২টায় বান্দরবান মেঘদূত আর্মি ক্যান্টিনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মং সা প্রু চৌধুরী। এতে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এস এম আবদুস সালাম আজাদ, এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজাউদ্দিন সুজা, বান্দরবান জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির,অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আবুল কালাম,সহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

এসময় বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০০ দিন অতিক্রম করলেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত হয়নি। সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থায়নের উৎস ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

তারা আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে বান্দরবানের তিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

এ সময় বক্তারা স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা উল্লেখ করেন, অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই, কার্যকর তদারকি এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ব্যয় বিষয়ে জনগণের কাছে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অপচয় ও দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সভায় নেতারা রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও দেশের সার্বিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণে সকল রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ১১ দলীয় জোট জনগণের প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। তারা জানান, নির্বাচনে জোট সমর্থিত প্রার্থীরা জনগণের সেবাকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে অংশগ্রহণ করবেন। নির্বাচিত হলে স্থানীয় সমস্যা সমাধান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করেন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *