শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য মন্ত্রীর পদত্যাগ
।। মো. হাসান মুন্না।।
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ১ জুন, সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ সুচারুভাবে পরিচালনায় নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই তিনি স্বেচ্ছায় এই পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ালেন।
এদিকে, অসুস্থতার কারণে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশের দাবি—মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্বের কারণেও দীপেন দেওয়ান এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর নির্বাচনী এলাকা রাঙামাটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং তা প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন:
সাবেক বিচারক, বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীপেন দেওয়ান ১৯৬৩ সালের ৮ জুন রাঙামাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন অত্যন্ত পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতীয় বিষয়ক উপদেষ্টা। রাঙামাটি সরকারি কলেজে পড়াশোনা শেষে দীপেন দেওয়ান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ৭ম বিসিএস (জুডিশিয়াল) ক্যাডারের মাধ্যমে বিচার বিভাগে যোগ দেন। প্রায় দুই দশক বিচারক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি যুগ্ম জেলা জজ পদে কর্মরত ছিলেন। ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করলে পার্বত্য এলাকায় বিএনপিতে এক যোগ্য নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়। সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের জুডিসিয়াল সার্ভিসের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে পা রাখেন দীপেন দেওয়ান।
ধীরে ধীরে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১০ সালে তিনি রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চলতি বছরের সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই তিনি বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

